× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডলার সংকটের মধ্যেই সাড়ে ১৭ হাজার গাড়ি আমদানি

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম

আপডেট : ২৫ মে ২০২৩ ১৫:৩৭ পিএম

ডলার সংকটের মধ্যেই সাড়ে ১৭ হাজার গাড়ি আমদানি

 বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে গত বছরের ৪ জুলাই বিলাসি পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় মোটরকার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স হোম অ্যাপ্লায়েন্স, স্বর্ণালংকারসহ বিলাসী পণ্যের আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। 

তবে বিলাসি পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কড়াকড়ি খুব একটা কাজে আসেনি। ওই সার্কুলার জারির ১১ মাসেও ডলার সংকট স্বাভাবিক হয়নি। উল্টো ডলার সংকটের কারণে এখন জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার বিলাসী পণ্য আমদানিতে অনুৎসাহিত করলেও ব্যবসায়ীরা তাতে কর্ণপাত করেনি। কড়াকড়ি আরোপের পর বিলাসি পণ্য আমদানি না কমানোর কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

গাড়ি আমদানির গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদদের এই বক্তব্যই প্রমাণিত হয়েছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কড়াকড়ি আরোপের পর গত ১১ মাসে ১৭ হাজার ৫০৯টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। এই হিসেবে গড়ে প্রতি মাসে গাড়ি আমদানি হয়েছে এক হাজার ৫৯১টি। অন্যদিকে কড়াকড়ি আরোপের আগে গত অর্থ বছর গাড়ি আমদানি হয়েছিল প্রায় ২৩ হাজার। ওই বছর প্রতি মাসে গড়ে আমদানি হয়েছে এক হাজার ৯১৬টি। সেই হিসেবে গত অর্থ বছরের তুলনায় এবার গাড়ি আমদানি খুব একটা কমেনি। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম উল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে যে ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে। তাতে অতি নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য ছাড়া অন্য পণ্যগুলো এখন আমদানি না করাই উচিত। গাড়িকে আমি বিলাসি পণ্য বলতে চাই না, গাড়িও এখন অনেকের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। তবে এই মুহুর্তে আমরা যেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তাতে গাড়ি না থাকলেও আমরা চলতে পারবো। তাই উচিত ছিল গাড়ি আমদানি কমিয়ে আনা। সেটি না করার কারণে আজকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৩ মে পর্যন্ত চলতি অর্থ বছরের এই ১১ মাসে ১৭ হাজার ৫০৯টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে এসেছে ২ হাজার ৯০০, আগস্ট মাসে ২ হাজার ৮০০, সেপ্টেম্বর মাসে ১ হাজার ৫০০, অক্টোবর মাসে ৩ হাজার, নভেম্বর মাসে ২ হাজার ১০০, ডিসেম্বর মাসে ৬০০, জানুয়ারি মাসে ৩১৩, ফেব্রুয়ারি মাসে ২০৭, মার্চ মাসে ১ হাজার ৫৮২, এপ্রিল মাসে ৭৫১ এবং সর্বশেষ মে মাসের এই ২৩ দিনে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৭৫৬টি। 

গাড়ি আমদানির এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৪ জুলাই গাড়িসহ বিলাসী পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন শতভাগ করার পরও গাড়ি আমদানিতে সেটি খুব একটা প্রভাব পড়েনি। জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাড়ি আমদানি স্বাভাবিক ছিল। এরপর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাড়ি আমদানি কিছুটা কমলেও এখন মার্চ থেকে আমদানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। ১ মার্চ থেকে সর্বশেষ তিন মাসে ৪ হাজার ৮৯টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। এসব গাড়ি আমদানির পেছনে গত ১১ মাসে বিদেশে চলে গেছে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আনুমানিক এক হাজার ৮৫৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গাড়ি আমদানি স্বাভাবিক হয়নি। জানুয়ারি মাস থেকে যেসব এলসি করা হয়েছে, ওই এলসির গাড়িগুলো এক সাথে এখন আসায় অনেকে মনে করছেন গাড়ি আমদানি স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা এখনও চাহিদা মতো গাড়ি আমাদনি করতে পারছি না। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন আগে যেই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মাসে ১৫০ থেকে ২০০ গাড়ি আমদানি করতো। তাদের আমদানি নেমে এসেছে অর্ধেকে। সাল-সাবিল আগে গড়ে প্রতিমাসে গাড়ি আনতো ২০০টি, এখন ১০০টির বেশি আনতে পারছে না। আমি আগে মাসে গড়ে গাড়ি আনতাম ৫০টা, এখন আনতে পারছি ১৫/১৬ টি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শতাভাগ মার্জিন দিয়েও অনেকে এলসি করতে পারছে না। এলসি খুলতে গেলে ১৫০ শতাংশ মার্জিন চায় ব্যাংকগুলো। কয়েকদিন আগে আমি দুটি গাড়ি আমাদনির জন্য এলসি খুলতে গিয়েছিলাম। ২৩ হাজার ডলারে দুটি গাড়ির এলসি করতে ব্যাংক আমার কাছে চাইছে ৪০ লাখ টাকা। ২৩ হাজার ডলারে সর্বোচ্চ আসে ২৫ লাখ টাকা, অথচ ব্যাংক চাইলো ৪০ লাখ টাকা।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা