প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৩ ১৩:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এ সংকট এড়াতে পারছে না নিম্ন আয়ের দেশ থেকে শুরু করে উন্নত দেশ। এমন পরিস্থিতিতেই ব্যাংকঋণের সীমা বাড়ানো নিয়ে সংশয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ঋণের সীমা বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে দেশটিকে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন আবারও সতর্ক করে বলেছেন, ‘ঋণসীমা বাড়ানো না হলে চলতি বছরের ১ জুন থেকেই অর্থ সংকটে পড়বে মার্কিন সরকার।’ গত সোমবার কংগ্রেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমনটি জানান তিনি। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো কংগ্রেসের কাছে চিঠি লেখেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
সর্বশেষ চিঠিতে তিনি বলেন, ‘জুনের শুরু থেকে সরকারি বেতনসহ অন্যান্য বিল দিতে ব্যর্থ হতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে ঋণসীমা বাড়ানোর বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
জ্যানেট ইয়েলেন তার আগের চিঠিতে বলেছিলেন, ‘সরকার যদি একবার খেলাপি হয়ে যায়, তাহলে অর্থনীতির ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।’ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, যদি মার্কিন সরকার খেলাপি হয়, তাহলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, পুরো বিশ্বে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও ঋণসীমা নির্ধারিত রয়েছে, যার বাইরে ঋণ নিতে পারে না দেশটির সরকার। বর্তমানে দেশটির সরকারি ঋণসীমা হলো ৩১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই এ সীমায় পৌঁছেছে বাইডেন সরকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার প্রশাসন বেশ কয়েক দিন ধরেই ঋণসীমা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির আইন প্রণেতারা তাতে বাধা দিচ্ছেন।
বর্তমানে দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকান পার্টির হাতে এবং ঋণসীমা বাড়াতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। তাই সহজে বিষয়টির নিষ্পত্তি হচ্ছে না। কিন্তু ১ জুনের মধ্যে ঋণসীমা বাড়ানো না গেলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি হবে মার্কিন সরকার।
তবে এমন পরিস্থিতিতেও আশার বাণী শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি। তিনি জানিয়েছেন, ঋণসীমা বাড়ানোর বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে ব্যাংকঋণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনকেও (জিডিপি) হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। জাপানে অনুষ্ঠিত উন্নত সাতটি দেশের সংগঠন জি-৭-এর আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এ সময় হান্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্থবিরতা প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।’
ঋণ সংকটে দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি থমকে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটি একেবারে ধ্বংসাত্মক হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। যদি তারা চুক্তিতে পৌঁছতে না পারে, তাহলে দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি থমকে দাঁড়াবে।’
তবে বাইডেন এবং কংগ্রেস তাদের মতপার্থক্যগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হান্ট। তিনি আরও বলেন, ‘জি-৭-ভুক্ত দেশগুলোর কর্মকর্তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেছেন। এমনকি নিষেধাজ্ঞা আরও বেশি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’ সূত্র : রয়টার্স