× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাজুবাদাম চাষে ঝুঁকছেন বান্দরবানের জুম চাষিরা

বান্দরবান প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৩ ১৩:১৮ পিএম

আপডেট : ২২ মে ২০২৩ ১৭:০৭ পিএম

পাহাড়ি বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-হলুদ রঙের পাকা কাজুবাদাম। প্রবা ফটো

পাহাড়ি বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-হলুদ রঙের পাকা কাজুবাদাম। প্রবা ফটো

বান্দরবানে মাটি ও আবহাওয়া কাজুবাদাম চাষের জন্য উপযোগী। কাজুর চারা লাগানোর তিন বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। বাজারজাতকরণেও সুবিধা ও দাম ভালো পাওয়ায় এই অঞ্চলের চাষিরা জুমচাষ ছেড়ে কাজুবাদাম চাষে ঝুঁকছেন। বর্তমানে বান্দরবানের সাত উপজেলা জুড়ে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। কাজুবাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। 

বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারে ছোট-বড় কাজুবাদামের বাগান। পাহাড়ি বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-হলুদ রঙের পাকা কাজুবাদাম। স্থানীয়রা একে বলেন থাম ফল, কেউ আবার কেসনাটও বলেন। 

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় তারা জুমচাষে নির্ভরশীল ছিলেন। জুমচাষ এখন আর আগের মতন লাভজনক নয়। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জুমচাষ ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে তারা স্থায়ী ফল কাজু চাষে ঝুঁকছেন। ইতোমধ্যে বাগান থেকে কাজুবাদাম সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত পাহাড়ে কাজুবাদাম চাষির সংখ্যা বাড়ছে।

থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের বাগানপাড়া এলাকার যোসেফ ত্রিপুরা জানান, আগে তিনি পাহাড়ের জমিতে সারা বছর জুমচাষ করতেন, কিন্তু এত কষ্ট করে ছয় মাসেরও খাবার জোগাতে করতে পারতেন না। সেই চিন্তা থেকেই মূলত স্থায়ী ফল বাগান করার পরিকল্পনা করেন। ২০১৭ সালে সাড়ে চার একর জায়গায় কাজুবাদাম চাষ শুরু করেন। ২০২২ সালে এসে ১৫ মণ কাজুবাদাম পেয়েছেন। প্রতি মণ ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এ বছর আরও ভালো ফলন এসেছে এবং ২০ মণ কাজুবাদাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

থানচি সদর ইউনিয়ন টুকতংপাড়ার কাজুবাদাম চাষি তিংপাও ম্রো বলেন, পাঁচ একর জায়গায় কাজুবাদাম চাষ করেছেন। তাদের পাড়ার ৩০ পরিবারের সবারই কমবেশি কাজুবাদামের বাগান আছে। তিনি গত বছর ২৫ মণ কাজুবাদাম পেয়েছেন। প্রতি মণ ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। চলতি বছর প্রতি মণ ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। 

বলিপাড়া ইউনিয়নের জ্ঞানলালপাড়ার বাসিন্দা সত্যপ্রিয় চাকমা জানান, এক সময় তিনিও পুরোপুরি জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। অন্যান্য চাষির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তিনিও স্থায়ী ফল বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

তারপর কাজুবাদাম, আম ও কলা বাগান করেন। সাত বছর আগে কাজুবাদাম বাগান শুরু করেন। তার তিন বছর পর গাছে ফল ধরতে শুরু করে। ২০২২ সালে ২০ মণ কাজুবাদম বিক্রি করে ৮৪ হাজার টাকা পেয়েছেন। গত বছর কাজুর বেশ ভালো দাম পাওয়া গেছে। প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। চলতি বছর অনাবৃষ্টির কারণে ফুল অনেক ঝরে পড়েছে তাই এবার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মণ কাজু পাওয়ার আশা করছেন। বাগান পাহাড়ের ওপরে, তাই প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলন আসার আগে যদি গাছের গোড়ায় পানির ব্যবস্থা করা যেত, তাহলেই ফলন আরও ভালো হতো। বর্তমানে প্রতি মণ কাজুবাদাম ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে। 

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও কাজুবাদামের চারা উৎপাদন ও বিপণন করা হয়। বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নে বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে কাজুবাদাম চারা উৎপাদনকারী নার্সারি। 

এলএ অ্যাগ্রো কোম্পানির নার্সারির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল বাবু বলেন, তাদের নার্সারি থেকে বিশ্বের উন্নত জাতের ‘গ ২৩’ কাজুবাদামের চারা পাওয়া যায়। প্রতি পিস ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন। গত বছর প্রায় ১ লাখ কাজুবাদাম চারা বিক্রি করেছেন বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর রেম্বো ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে ভালো জাতের কাজু পাওয়া যায় এবং ফলনও বেশ ভালো হচ্ছে। চলতি বছর চাষিদের কাছ থেকে মণপ্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে কাজুবাদাম কিনছেন। 

বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে কাজুবাদাম উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৩২৩ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ১ হাজার ৩০৮ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমএম শাহনেয়াজ জানান, বান্দরবানের মাটি ও আবহাওয়া কাজুবাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই রোগবালাই কম হয়, চারা লাগানোর তিন বছরের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। বাজারজাতকরণেও সুবিধার পাশাপাশি চাষিরা দাম ভালো পাচ্ছেন। সেজন্য তারা কাজুবাদাম চাষে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন। এখন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে নাশতার টেবিলে কাজুবাদাম রাখা হয়। 

বর্তমানে প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া প্রতি কেজি কাজুবাদামের বাজার দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা হলেও প্রতি কেজি পরিশোধিত কাজুবাদামের দাম স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা