প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৩ ১৬:০৬ পিএম
প্রবা ফটো
দেশের বর্তমান অবস্থায় মূল্যস্ফীতি ও আয়-বৈষম্য কমানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তবে সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরবরাহ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিনিময়হার এক রেটে নিয়ে আসা, রিজার্ভ বাড়াতে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স আসা বন্ধ করাসহ নানান উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) দুই দিনব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের শেষ দিনে বিভিন্ন অধিবেশনে এ তাগিদ দেওয়া হয়। তবে নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে ডলারের সিঙ্গেল রেট আসবে। আগামী বাজেট হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করে বিআইডিএস। এদিন প্রায় ১০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল। আলোচনায় অংশ নেন আইএমইডির সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, আব্দুল বাকী, পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ড. মসিউর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের অঙ্গীকার থাকলে বৈষম্য কমানো সম্ভব। সরকার সেটিই করছে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। গত তিন-চার বছর ব্যক্তি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও মিসম্যাচ আছে। এটি দূর করতে হবে। এখন থেকে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেই প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত।
ড. শামসুল আলম বলেন, সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বর্তমান মূল্যস্ফীতি বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট। এটা নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়ে হবে না। সরবরাহ বাড়াতে হবে। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেট হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। সেই সঙ্গে করোনার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়াই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, এখন সাময়িক মাল্টিপোল ডলার রেট করা হয়েছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে ডলারের রেট এক অঙ্কে চলে আসবে। রিজার্ভ কমল কি বাড়ল সেটি বড় কথা নয়। যদি প্রতিদিন একটু একটু করে রিজার্ভ বাড়ে তাহলেই ভালো। সেই সঙ্গে আমদানি খরচ যদি কম থাকে তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন হলো আর খরচ একবারেই অনেক বেশি হয়ে যায় তাহলে ঝামেলা আছে।
তিনি বলেন, সরকার ও ব্যাংক চাইলেও হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য ভারতের মডেল অনুসরণ করে অ্যাপের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আনার কাজ করা হচ্ছে। প্রবাসীরা অ্যাপের মাধ্যমে পছন্দ অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে নিজের ঘরে বসেই রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবে। এটা করতে সময় লাগবে।
চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানিগুলো পাচ্ছে না দক্ষ কর্মী : দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দক্ষ কর্মী পাচ্ছে না সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো। পাশাপাশি শিক্ষার দিক দিয়েও রয়েছে অনেক ঘাটতি। বিআইডিএস আয়োজিত সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘স্কিল মিসম্যাস অ্যান্ড লেবার প্রোডাক্টিভিটি : ইভডেন্স ফর্ম টু ইঞ্জিয়ারিং সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে আসে। এটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল। মূলত ২ হাজার ২২১টি প্রতিষ্ঠান ও পেশাদারের ওপর গবেষণা করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির ফলে অনেক বেশি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে সড়কের ৩৬৯টি প্রকল্পের অডিট রিপোর্ট গবেষণা করে দেখা গেছে, ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৮০ শতাংশ প্রকল্পে। ব্যয় ও সময় বেড়েছে ৫০ শতাংশ, ব্যয় ও সময় কোনোটিই বাড়েনি ১৩ শতাংশ প্রকল্পে।
সেমিনারে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে যেসব পরিকল্পনা করা হয়, তার অধিকাংশই করা হয় বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় না রেখে। কিন্তু তা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ভবিষ্যৎ বাজেট প্রণয়নে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবে।’
পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। আমরা পৃথিবীর জনবহুল দেশ। জনবল আমাদের বড় সম্পদ। সেগুলো দক্ষ করে তুলতে হবে। টাকা দিয়ে শিক্ষা স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য আন্দোলন প্রয়োজন।’