জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ১৩:১১ পিএম
প্রবা ফটো
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দেওয়া ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্ত পূরণের রূপরেখা তৈরি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চারটি উপায়ে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট খাত থেকে অতিরিক্ত ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আদায় করবে সংস্থাটি।
আগামী বাজেট ও নিয়মিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২ হাজার ৪০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। সংস্থাটি সিগারেটের করহার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের অব্যাহতি তুলে দিয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইসের (ইএফডি) মাধ্যমে ৪০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা আদায় করতে চায় এনবিআর। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এনবিআরের পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তা এবং নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে এনবিআরের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ এই পদক্ষেপগুলো গ্রাহকদের আরও চাপের মধ্যে ফেলে দিতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আইএমএফ যখন কোনো দেশে কর্মসূচি নিয়ে যায়, তখন সেই দেশের অর্থনীতির ওপর এক কর্তৃত্ব আরোপ করে বা আরোপের চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, আইএমএফ যখন কোনো দেশে কর্মসূচি নিয়ে যায়, তখন অনেক সময় সেদেশে বৈষম্য বেড়ে যায়। তারা যেসব শর্ত দেয়, তার কারণেই এটি হয়। এমনকি আইএমএফের নিজস্ব গবেষণাতেই এটা উঠে এসেছে। আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে সরকারকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইএমএফ মিশনের সঙ্গে এনবিআরের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে রাজস্ব বাড়ানোর রূপরেখা জানতে চেয়েছিল। কিন্তু বিশাল ইনফরমাল অর্থনীতির দেশে এই তথ্য বের করা কঠিন কাজ বলে জানিয়েছিলেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তবে আইএমএফের ক্রমাগত চাপে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ এই রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা বাড়িয়ে পরের অর্থবছরে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় বাড়াতে হবে। বাড়তে পারে আমদানি অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট।
সূত্র জানায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আমদানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা ভ্যাট আদায়ের জন্য হুমকি। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট প্রশমিত করার মাধ্যমে কাঁচামালের আমদানি এবং ভোগ্যপণ্যের স্থিতিশীলতা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। উৎপাদন ব্যাহত হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয়।
সূত্র আরও জানায়, মোট ভ্যাট রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে উৎপাদন খাত থেকে এবং প্রায় ৫ শতাংশ আসে বাণিজ্য খাত থেকে। উৎপাদন খাতে ভ্যাট বেশিরভাগই আমদানি করা কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। যেখানে বাণিজ্য খাত থেকে আয়নির্ভর করে ভোগ্যপণ্য আমদানির পাশাপাশি পণ্য উৎপাদনের ওপর।