× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভাটা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ১৩:১৪ পিএম

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভাটা

আমদানির লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপের সুফল মিলতে শুরু করেছে। কমছে পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ। তাতে কিছুটা স্বস্তিও এসেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। কিন্তু এর বিপরীতে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমায় কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা কমেছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। 

ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি আয় হ্রাস ও রেমিট্যান্স-প্রবাহ কমে যাওয়ায় চাপে পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তবে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পর তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আমদানিতে তদারকি বৃদ্ধি অন্যতম। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মার্চ শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে ৩৩ দশমিক ৭৫ ও আগের বছরের (২০২২) মার্চ শেষে ৪৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছিল রিজার্ভ। 

আলোচ্য সময়ে, শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা কমেছে ৩১ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। অন্যদিকে এ সময়ে শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে যথাক্রমে সাড়ে ৩১ শতাংশ ও সাড়ে ২২ শতাংশ। এর প্রভাবে গত চার মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগ থমকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার সাশ্রয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয়ে লাগাম পড়েছে এটা ভালো দিক। তবে চিন্তার বিষয় হলো, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা কমে যাওয়া। এতে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মোট দেশজ উৎপাদন- জিডিপিতে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো থেকেও দেশের জিডিপি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামালের আমদানি কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য খারাপ বার্তা দিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রপ্তানি ও বিনিয়োগ কমবে। যার প্রভাব পড়বে জিডিপি ও কর্মসংস্থানে। 

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বই কঠিন সময় পার করছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। আমাদের প্রবাসী আয় নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। রপ্তানি অর্ডার কমে গেছে। দেশ থেকে অর্থ পাচারও বেড়েছে। এ অবস্থায় ডলারের সংকট ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে আমদানি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে প্রায় সব পণ্যের এলসিই কমে গেছে।’

সাধারণত মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করে উদ্যোক্তারা নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন বা কারখানার সম্প্রসারণ করে থাকেন। ফলে এ পণ্যটির আমদানি বাড়লে দেশে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আর বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসে এবং এর প্রভাব পড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চয়তা ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা কমিয়ে দিয়েছেন তারা। আবার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণেও অনেকের আগ্রহ কমেছে। এ ছাড়া ডলার সংকটের কারণেও অনেক ব্যাংক মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা থেকে বিরত রয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাংকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় ২০২১ সালের আগস্ট থেকে দেশে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক গতিতে বাড়তে থাকে। ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। যার প্রভাবে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকে। কমতে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তাই রিজার্ভ সাশ্রয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্যের আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঋণপত্র খোলার তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব কড়াকড়ির কারণে যেসব পণ্যের আমদানিতে এলসি খোলায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি, সেসব পণ্যের এলসি খোলায়ও অনীহা দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। যেমন- মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলায় কড়াকড়ি আরোপ করা না হলেও গত কয়েক মাস ধরে এ দুটি পণ্যের এলসিও অস্বাভাবিকভাবে কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছে মাত্র ২২৯ কোটি ডলারের। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৫১৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে এ সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ১৬ শতাংশ কম। 

গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এই পণ্যটির এলসি খোলা হয়েছিল ২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের। এ ছাড়া এ সময়ে শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে ৪১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সার্বিকভাবে সব পণ্যের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা