× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ট্রাস্টের আয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে রিটার্ন সাবমিশন

জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১১:০৪ এএম

ট্রাস্টের আয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে রিটার্ন সাবমিশন

ট্রাস্টের আয়ের বিপরীতে সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু করতে এবং চলমান রাখতে রিটার্ন দাখিল ও যাচাই করার বিধান প্রবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ অনুযায়ী ট্রাস্ট একটি করযোগ্য সত্তা। কিন্তু ট্রাস্টসমূহ নিয়মিতভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের বিধান পরিপালন করছে না।

তিনি জানান, বিভিন্ন কোম্পানি কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নামে ট্রাস্ট গঠন করে নিজস্ব আয় গোপন করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করে। ফলে ট্রাস্ট রিটার্ন দাখিল না করে ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ কর ফাঁকির ক্ষেত্র তৈরি করছে।

তিনি আরও জানান, ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক লেনদেনের বিষয়াদি নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট করে কোনো এজেন্সি না থাকায় ট্রাস্টের অর্থ সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং অর্থ পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী বাজেটে ট্রাস্টের আয়ের বিপরীতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ করাও সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আহরণে তলানিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাই ঋণ দেওয়ার শর্ত হিসেবে কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্য দিয়েছে। বর্তমানে দেশে কর-জিডিপির অনুপাত ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির শর্ত মোতাবেক ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) সে অনুপাত ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করতে হবে। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। আয়কর থেকে আগামী তিন অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু সংস্কার ও পদক্ষেপের বিষয়েও আইএমএফকে জানিয়েছে এনবিআর। গত কয়েক বছরে রাজস্ব আহরণে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তাই আইএমএফের প্রোগ্রামের আওতায় বাড়তি রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এনবিআর কিছু সংস্কার পদক্ষেপ নিলেই তা পূরণ করা সম্ভব। আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে বলেও আইএমএফকে জানিয়েছে এনবিআর। এর মধ্যে রয়েছে ই-পেমেন্ট, ই-রিটার্ন ফিলিং, ই-টিডিএস, ই-অফিস ম্যানেজমেন্ট ও ই-টিআইএন সিস্টেম।

এনবিআরের দাবি, এসব পদক্ষেপে যদি যথাযথ অর্থায়ন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও মানবসম্পদের সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে টেকসইভাবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো যাবে। এ ছাড়া অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স ও কর ফাঁকির জায়গাগুলো বের করা সম্ভব, যেখান থেকেও কর আহরণ বাড়ানো যাবে বলে মনে করে এনবিআর। পাশাপাশি ঝুঁকি বাছাই করে খাতভিত্তিক অডিটের মাধ্যমেও কর ফাঁকির জায়গা বের করা সম্ভব। কর আহরণ বাড়ানো যাবে কর প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেও।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৩১ লাখ ৯৬ হাজার ৭১৬ রিটার্ন জমা পড়েছে। অথচ এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে রিটার্ন জমা পড়েছে ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ২১৫টি। সে হিসাবে এক বছরেরও কম সময়ে সাত লাখের বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে।

এনবিআর মনে করে, বর্তমানে ৩৮ ধরনের সেবায় রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করায় আয়করদাতার সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে এনবিআর ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সঙ্গে যৌথভাবে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) চালুর বিষয়টিও কর আহরণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

এর আগে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ৩৮ ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবার বিপরীতে টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) সনদের পরিবর্তে আয়কর রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

বর্তমানে যেসব সেবার বিপরীতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে রিটার্ন : ৫ লাখ টাকার বেশি ব্যাংকঋণ নিতে চাইলে; কোম্পানি পরিচালক পদ পেতে; আমদানি-রপ্তানি সনদ; ব্যবসা শুরুর ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নকালে; সমবায় সমিতির লাইসেন্স নিতে; বীমা কোম্পানির সার্ভেয়ার হিসেবে নিবন্ধন পেতে; ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রিকালে; ক্রেডিট কার্ড নিতে; পেশাজীবী সংগঠনের (চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, হিসাববিদ, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, সার্ভেয়ার) সদস্যপদ পেতে; কাজী সনদ গ্রহণ করতে; বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য পেতে; ড্রাগ লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র ও বিএসটিআইর সনদ পেতে; বাণিজ্যিক ও শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসসংযোগ অথবা সিটি করপোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাসসংযোগ পেতে; নৌযানের সার্ভে সনদ নিতে; ইটভাটা চালু করতে; বিদ্যুৎসংযোগ নিতে; কোম্পানির এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পেতে; আগ্নেয়াস্ত্র সনদ পেতে; আমদানির এলসি খুলতে; ৫ লাখ টাকার বেশি ডাকঘর সঞ্চয়পত্র ও ৫ লাখ টাকার বেশি অন্য সঞ্চয়পত্র কিনতে; ব্যাংক হিসাব খুলতে; উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে; যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসায়িক অংশীদার হলে; বীমা কোম্পানির এজেন্সি সনদ নবায়ন করতে; মোটরসাইকেল ও সিএনজি ছাড়া অন্য যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে; বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী এনজিও বা ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ গ্রহণ করতে; আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি জমা দিতে; অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ করতে; বাড়ির নকশা অনুমোদন করতে চাইলে, সরকারি-বেসরকারি দরপত্র জমা দিতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা গ্রহণকালে, ১৬ হাজার টাকার বেশি মূল বেতনভোগী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন তুলতে রিটার্ন জমার স্লিপ লাগবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা