প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১৬:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবছর ব্যাংকের বড় গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ কখনও মওকুফ করে না ব্যাংক। অবৈধভাবে মওকুফ করা এসব টাকা যদি এসএমই খাতে দেওয়া হতো তাহলে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হতো। দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হয়ে যেত। উন্নত দেশ গড়ার জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কোনো বিকল্প নেই। তাই এসব উদ্যোক্তাদের সার্বিক দিক থেকে সহযোগিতার পরামর্শ দিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে এসএমই খাতের উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক সময় যারা ব্রিফকেস হাতে নিয়ে ঘুরত তারা আজ বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালক। সরকারি ব্যাংকের টাকা দিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন তারা। অবৈধভাবে টাকা লুট করে কারা ব্যাংকের মালিক হয়েছেন তাদের নাম প্রকাশ্যে আসা উচিত। কিন্তু তা না করে আমরা তাদেরকে বিভিন্ন রকম সুযোগ দিচ্ছি। অবহেলিত হচ্ছে ছোট উদ্যোক্তারা। দেশকে বাঁচাতে এবং দেশের উন্নয়নে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু করতে ১ লাখ টাকা থেকে ঋণের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ১ লাখ টাকায় কোনো ব্যবসা হয় না। এই বাজেট আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
দেশের চিনিকল সম্পর্কে তিনি বলেন, চিনিকলগুলো যদি সততার সঙ্গে চালানো হতো তাহলে আজকে দেশে চিনির সংকট হতো না। আমি একটা চিনিকল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি যারা আখ চাষ করে, তারাই আবার চিনিকলের শ্রমিক। এসব দুর্নীতির মাধ্যমে আজ চিনিকলগুলো বন্ধ হতে বসেছে। আমাদের দেশে লাল ফিতার দৌরাত্ম এখনও কমেনি। মন্ত্রীদের চেয়ে সচিবদের শক্তি বেশি। তাই তারা যা খুশি তাই করতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, করোনার মধ্যে ৬৩ শতাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩২ শতাংশ উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ উদ্যোক্তা করোনাকে উপেক্ষা করেও তাদের ব্যবসা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সংখ্যা ৭৮ লাখ। এরপর আর কোনো পরিসংখ্যান হয়নি। আমরা মনে করি এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এই খাতের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মৃধা, সেক্রেটারি আবুল কাশেম প্রমুখ।