প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১৫:১০ পিএম
ফাইল ফটো
চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি দুই মাসে খরচ করতে হবে বাকি অর্ধেক টাকা। শুধু মে ও জুন মাসেই খরচ করতে হবে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরে এডিপি অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এপ্রিলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ খরচ করা হয়েছে। টাকায় যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এটি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
একক মাস হিসেবে এপ্রিলে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। খরচ হয়েছে ২০ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল মাসে এটি বাস্তবায়নের হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে এডিপির সঙ্গে অন্য বছরগুলোর তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২১-২২ এ ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ২০২০-২১ এ ৪৯ দশমিক ০৯ শতাংশ, ২০১৯-২০ এ ৪৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮-১৯ এ ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার পর নানান কৃচ্ছ্রতা সাধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। পাশাপাাশি বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অর্থ ছাড়ের পরিমাণও কমে যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে এবং এলডিসি উত্তরণের আগে যখন স্বল্প সুদে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান প্রয়োজন, তখন আগামী তিন অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের তুলনায় কমে যাবে বলে ধারণা করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এমআরটি এবং মাতারবাড়িসহ সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ আগামী অর্থবছরগুলোতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে বলে অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে ইআরডি।
তবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে মনে করছেন ইআরডি কর্মকর্তারা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ডিসবার্সমেন্টের প্রাক্কলন করা হয়েছে যথাক্রমে ৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন, ১০ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন এবং ১০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিবছর ৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রাক্কলন করা হয়েছে। গত অর্থবছর বৈদেশিক ঋণ ডিসবার্সমেন্টের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগের অর্থবছরে এটি ছিল ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।