জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১২:৫৫ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৩ ১৪:২২ পিএম
আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে করপোরেট করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার বোঝা কমতে পারে। বর্তমানে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসে করের জন্য ২৯টি রিটার্ন জমা দিতে হয়। এর ফলে কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, মেধা, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে এর পরিমান কমে ১২ তে মধ্যে নামিয়ে আনা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এতে করপোরেট করদাতারা আরও কমপ্লায়েন্ট হবে, অতিরিক্ত কাগজপত্র তৈরির ক্ষেত্রে মেধার অপচয় রোধ করবে এবং অর্থব্যয় ও ভোগান্তি কমবে।
গত বছর আয়কর আইন ২০২২ (খসড়া) এর উপর সরকারী-বেসরকারী খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি এনবিআরকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়তার জন্য রিটার্ন জমার লোড কমিয়ে ১২ তে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছিলো।
এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে এনবিআর খসড়া আইনটি প্রকাশ করে জনমত সংগ্রহ করে। এরপর অক্টোবরের ৬ তারিখে আইনটি চুড়ান্ত করতে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। চলতি বছরের ২৩ জানুযারি আয়কর আইনটি পরীক্ষা করে মন্ত্রীসভা আয়কর আইন ২০২৩ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই নীতি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজীকরণ করবে। নতুন আয়কর নীতিতে বিষয়টি উল্লেখ আছে। তবে সম্ভবত পরবর্তী বাজেটের আগে আইনটি সংসদে পাস হবে না। তাই এনবিআর বাজেটেই এ বিধান চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিধানটি করজালকে সম্প্রসারিত করবে এবং বিপুল সংখ্যক করদাতাকে করজালে আনতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের জন্যও এটা সহায়তা করবে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উপদেষ্টা ও রিভিউ কমিটির সদস্য স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং এফডিআই সহ বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। এটি তাদের কাগজপত্রের খরচ এবং পরামর্শের ফিও কমিয়ে দেবে। সেইসঙ্গে আরও ব্যবসা-বান্ধব আয়কর ব্যবস্থা তৈরি করবে।
কর ফাঁকিতে ৮৫ শতাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান : দেশে নিবন্ধিত অল্প সংখ্যক কোম্পানি রাজস্ব বোর্ডে কর প্রদান করে। যেখানে অনেক নিবন্ধিত করদাতা তাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন না। এর ফলে প্রতি বছর রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।
চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক লাখ ৯৯ হাজার ৩০টি কোম্পানির ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) রয়েছে। যেখানে দুই লাখ ৭৮ হাজার ২৭৭টি সরকারী ও বেসরকারী কোম্পানি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্মস নিবন্ধকে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত। এ হিসেবে প্রায় ৭১ শতাংশ কোম্পানি করজালের আওতায় রয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধুমাত্র ৩১ হাজারটি কোম্পানি তাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছে। যার অর্থ আরজেএসসির অধীনে মোট নিবন্ধিত কোম্পানির প্রায় ১১ শতাংশ বা এনবিআরের টিআইএন ধারী ১৫ শতাংশ কোম্পানি রিটার্ন দাখিল করেছে।
আইন অনুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানির রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু মোট ৮৫ শতাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠানই কর ফাঁকি দিচ্ছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানি টিআইএনধারীদের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এক লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫টি সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি এবং ৫৯ হাজার ৫২৫টি ফার্ম রয়েছে।