প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ১৩:৩৫ পিএম
ফাইল ফটো
বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ খুব বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারছে না। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে থাকা অন্যতম কারণ। এ ছাড়া রপ্তানিপণ্য বহুমুখীকরণ হচ্ছে না। পাশাপাশি উচ্চ শুল্কহারের কারণে আমদানি ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। ফলে কোনো রপ্তানিপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে এর কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাপক উৎপাদন খরচ হচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ পার্টিশিপেশন ইন ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল ভ্যালু চেন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং। আলোচক ছিলেন পিআরআইএর নির্বাহী পরিচালক জায়েদী সাত্তার ও এডিবির রিজিওনাল অ্যাডভাইজর রানা হাসান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডিবির চিফ ইকোনমিস্ট আলবার্ট এফ পার্ক, এডিবির সিনিয়র পরিসংখ্যানবিদ মাহিনথান জে মাসিসংঘাম ও এডিবির অর্থনীতিবিদ পারমিলা এ শ্রীভেলি। বক্তব্য দেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ডিরেক্টর আরিফ সোলায়মান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় পোশাক খাতনির্ভর। মোট রপ্তানির ৯০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য শিল্পপণ্য রপ্তানি বাড়ছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষধ এবং জুতা শিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তানি বাড়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। শিল্প খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে কম। এ ছাড়া ভিয়েতনামের অনেক পেছনে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শামসুল আলম বলেন, আমরা পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রপ্তানির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছি। এটি স্বীকার করতে অসুবিধা নেই যে, আমাদের শুল্ক অনেক উচ্চ। এটি আলোচনা করে কমাতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে করও বেশি। সেটিও আলোচনা করতে হবে। আমাদের কর জিডিপি রেশিও কম। বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশ। এটাকে ৫ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের শুধু ফরেন ফান্ড নয়, প্রযুক্তিগত সহায়তাও নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের আলোচনা শুধু এক মাস নয় আরও বিস্তৃত হতে হবে। শুধু সংসদ নয়, সংসদীয় কমিটি এবং সবার সঙ্গেই আলোচনা করতে হবে। এনবিআরকে আরও শাক্তিশালী করতে হবে। পণ্য ও বাজার উভয়ই বহুমুখীকরণ করতে হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামসুল আলম বলেন, আইএমএফ যেকোনো শর্ত দিলেই আমরা যে মেনে নেব তা কিন্তু নয়। তারা আমাদের সহযোগী। নিজের প্রয়োজনেই আমাদের কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। সুদহার আপাতত বাড়ানোটা ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদিও সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ধীরে যেতে হবে। সেটি একইভাবে কাজ নাও করতে পারে।