× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হারভেস্টারে হাওরে সাশ্রয় ৭৫ কোটি টাকা

সাইদুর রহমান আসাদ, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৩ ১১:৫০ এএম

আপডেট : ০৭ মে ২০২৩ ১৪:০৩ পিএম

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুরে হারভেস্টার মেশিনে মাড়াই করা হচ্ছে বোরো ধান। প্রবা ফটো

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুরে হারভেস্টার মেশিনে মাড়াই করা হচ্ছে বোরো ধান। প্রবা ফটো

সুনামগঞ্জে এবার বোরো মৌসুমে সর্বোচ্চসংখ্যক আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়েছে। সনাতনী পদ্ধতির পাশাপাশি এক হাজারেরও বেশি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হয়েছে। এতে পুরো জেলায় কৃষকদের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টন; যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। 

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হয় ২ হাজার ৪০০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কাটার পর কৃষকের ধানের ভাগ (২০ ভাগের একভাগ) দিয়ে মাড়াই করতে হয়। এতে টাকার অঙ্কে বিঘাপ্রতি ধান কাটা ও মাড়াইয়ে খরচ পড়ে ৪ হাজার টাকার ওপর।

তারা আরও জানান, কম্বাইন হারভেস্টারে ধান কাটা ও মাড়াই একসঙ্গে হয়। এতে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। পুরো জেলায় ১ হাজার ৩৮টি হারভেস্টার ব্যবহার হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এতে কৃষকদের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। 

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের কৃষক বদরুল ইসলাম। তিনি এবার ধানকুইন্না হাওরে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। ৮ বিঘা জমিতে ১৬০ মণ ধান এখন তার তৃপ্তির ঢেঁকুর।

তিনি বলেন, ‘এবার হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটায় ২০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সনাতনী পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির ধান কাটতে চার হাজার টাকা লেগেছে। মাড়াই করে ও শুকিয়ে বাড়িতে আনতে খরচ হয়েছে আরও এক হাজার টাকা। কিন্তু হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার ফলে বিঘাপ্রতি লেগেছে মাত্র ১ হাজার ৭০০ টাকা। সঙ্গে পরিবহন খরচ ৮০০ টাকাসহ মোট খরচ হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে ২ হাজার ৫০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’

একই ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের কৃষক আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘৩০ জন সারা দিন কাজ করলে ৯-১০ বিঘা জমির ধান কাটতে পারে। কিন্তু একটি হারভেস্টার দিয়ে এক দিনে ২৫-৩০ বিঘা জমির ধান কাটা যায়। পাশাপাশি মাড়াইও হয়ে যায়। মেশিনের ভেতর থেকে শুধু বস্তা ভরতে হয়। তাই এবার সবার আগে ধান কাটা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি হয়েছে অর্থ সাশ্রয়ও।’

শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের কৃষক বিমান দাস রাজীব বলেন, ‘মেশিন দিয়ে ধান কাটলে গো-খাদ্য বাড়ে। সনাতন পদ্ধতিতে ধান কাটলে শুধু উপরের অংশ কেটে আনা হয়। মেশিন দিয়ে কাটলে ধানের গোড়া (নিচ থেকে) থেকে আনা হয়। এতে খড় বেশি হয়।’

জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘এবার সর্বোচ্চসংখ্যক হারভেস্টার মেশিন দিয়ে হাওরে ধান কাটা হয়েছে। এর ফলে হাওরে শতভাগ ধান কাটা শেষ। এ ছাড়াও মেশিনে ধান কাটার ফলে পুরো জেলায় কৃষকদের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা