প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৩ ১৯:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গত মার্চে চীনে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অংশ হিসেবে এ সময় চীনা ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া থেকে পর্যাপ্ত কয়লা ও লোহার আকরিক আমদানি করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, চীনে দেশটির চালান গত মার্চ মাসে ১ হাজার ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের মাসের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি এবং এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। এমনকি ১৯৮৮ সালে বাণিজ্যিক রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে মাসভিত্তিক এ বাণিজ্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ।
বিশেষ করে চীনে তাপীয় কয়লা রপ্তানি এক বছরের আগের তুলনায় গত মার্চে ১২২ শতাংশ বেড়ে ২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি চীনে লৌহ আকরিক পিণ্ডে ২৮ শতাংশ এবং লৌহ আকরিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিপমেন্ট জরিমানা বেড়ে যথাক্রমে ৩৮ কোটি ডলার ও ৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
তবে ২০২০ সালের শুরুর দিকে তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন কোভিড-১৯-এর উত্স সম্পর্কে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে চীনা শহর উহানকে করোনার উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে বিষয়টিকে সে সময় চীন সরকার রাজনৈতিক কারসাজি হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এরপরেই অস্ট্রেলিয়ার বার্লি, লবস্টার, কয়লাসহ একাধিক পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। কিন্তু গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবার দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বেইজিং অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানির ওপর সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারের মতে, চীন তাদের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। যা অস্ট্রেলিয়ার বিদেশি বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী।
এদিকে বৃষ্টির কারণে এ বছর অস্ট্রেলিয়ায় শস্যের উৎপাদন ভালো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাড়বে। যদিও এর আগে খাদ্যসংকটের জন্য অতিবৃষ্টিকে দায়ী করেছিল দেশটি। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস বলছে, চলতি অর্থবছরে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানির আশা করছে দেশটি। যা অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি।
অস্ট্রেলিয়া যেসব পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে তার মধ্যে গম অন্যতম। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সূত্র : সিএনএন