প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:০৭ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে অনেক সুযোগ অপেক্ষা করছে। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করার এখনোই সঠিক সময়। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৩ ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার : পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক রোড শোতে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
এ সময় তিনি জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগে বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, আর্থিক ও রাজস্ব নীতি এবং বিনিয়োগবান্ধব সরকার, সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।’
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ’বাংলাদেশের পুঁজিবাজারও দারুণ ভূমিকা রাখছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজারে কম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভালো পারফরম্যান্স করেছে। এ বছর আমাদের পুঁজিবাজারে ৭৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার মূলধন বিনিয়োগ করা হয়েছে। আর সে কারণেই ২০২০ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সর্বোচ্চ রিটার্ন প্রদান করে বলে এএফসি দ্বারা স্বীকৃতি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ’গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এর পেছনের কারণ ছিল নেতিবাচক খবর, অপপ্রচার। বলা হতো, আমরা গরিব দেশ, শিক্ষার হার অনেক কম, নারী ও পুরুষের বৈষম্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাব রয়েছে। এগুলো সবই পুরোনো ধারণা। আসলে সেসব আর বিদ্যমান নেই।’
দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, ’১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল নেগেটিভ ১৪ শতাংশ। বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল ৯৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ছিল ১৪০ ডলার। আর ২০২২ সালে এসে জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশে। বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ ডলার। এতেই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে।’
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ’বাংলাদেশে ৩৯টি হাইটেক পার্ক, ৯৭টি ইকোনমিক জোন ও আটটি ইপিজেড রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে এখন অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি একে অপরের সঙ্গে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ করছে। আপনারা দেখেছেন জেটিআই ঢাকা টোবাকোকে, ইউনিলিভার গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইনকে এবং রবি আজিয়াটা এয়ারটেলকে অধিগ্রহণ করেছে। এগুলো বাংলাদেশে অধিগ্রহণ ও একীভূত হওয়ার কিছু উদাহরণ। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিকস ও মোটরকার কোম্পানি উৎপাদনে আসছে। আমরা পরবর্তী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাংলাদেশে এখন গাড়ি কোম্পানিগুলোও আসছে। এখন বাংলাদেশ গাড়ি উৎপাদন শুরু করছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বিএসইসি ও ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব জাপানের (এফএসএ) মধ্যে ১১ সমঝোতা চুক্তি বিনিময় হয়। এ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্যক্তিরা বিনিয়োগে নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোড শোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনসহ বিএসইসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের ‘দ্যা রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার : পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের রোড শো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ষষ্ঠতম আয়োজন। এ রোড শোতে এবারও বিএসইসির সঙ্গে আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এ ছাড়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সহযোগিতায় রয়েছে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স, মিনোরি জাপান বাংলাদেশ ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো)।