প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে নিজ দেশে পণ্য পরিবহনে বাণিজ্যিক অনুমতি পেল ভারত। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে স্থায়ী ট্রানজিট আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কাস্টমস নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সদস্য ড. আব্দুল মান্নানের সই করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ফলে ভারত এখন থেকে বন্দর দুটো ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর আগে গত ২০১৮ সালে ভারতে এসিএমপি চুক্তি স্বাক্ষর করে ঢাকা ও দিল্লি। যার আওতায় ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে একটি আদর্শ কার্যপ্রণালি তৈরি হলে পরের বছর পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে একটি ভারতীয় পণ্যের চালান আখাউড়া হয়ে আগরতলা যায়। গত বছর মোংলা বন্দর দিয়ে আরও দুটি রুটে পরীক্ষামূলক ট্রানজিট নেয় দেশটি।
এতদিন পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনে অনেক সময় লাগত ভারতের। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহন করলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে দেশটির।
এ আদেশ অনুযায়ী মোট ১৬টি রুটে ট্রানজিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রুটগুলো হলোÑ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আখাউড়া হয়ে আগরতলা, মোংলা বন্দর থেকে আখাউড়া হয়ে আগরতলা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তামাবিল হয়ে ডাউকি, মোংলা বন্দর থেকে তামাবিল হয়ে ডাউকি, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শেওলা হয়ে সুতারকান্দি, মোংলা বন্দর থেকে শেওলা হয়ে সুতারকান্দি, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিবিরবাজার হয়ে শ্রীমন্তপুর, মোংলা বন্দর থেকে বিবিরবাজার হয়ে শ্রীমন্তপুর, আগরতলা থেকে আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, আগরতলা থেকে আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, ডাউকি থেকে তামাবিল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, ডাউকি থেকে তামাবিল হয়ে মোংলা বন্দর, শেওলা থেকে সুতারকান্দি হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, শেওলা থেকে সুতারকান্দি হয়ে মোংলা বন্দর, শ্রীমন্তপুর থেকে বিবিরবাজার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও শ্রীমন্তপুর থেকে বিবিরবাজার হয়ে মোংলা বন্দর।
এই আদেশে প্রতি চালানে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি ধরা হয়েছে ৩০ টাকা, প্রতি মেট্রিক টন পণ্যে ট্রানশিপমেন্ট ফি ধরা হয়েছে ২০ টাকা, প্রতিটি কনটেইনার/ট্রাক/কাভার্ড ভ্যানের জন্য প্রতি কিলোমিটারে এসকর্ট চার্জ ধরা হয়েছে ৮৫ টাকা, প্রতি মেট্রিক টন পণ্যে বিবিধ প্রশাসনিক খরচ ধরা হয়েছে ১০০ টাকা, প্রতি কন্টেইনারের স্ক্যানিং ফি ধরা হয়েছে ২৫৪ টাকা। এ ছাড়া ইলেকট্রিক লক অ্যান্ড সিল ফির ক্ষেত্রে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ হিসাব করে নেওয়া হবে। সড়ক পরিবহনের মাসুল (টোলসহ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত হারে প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া এসবের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) যুক্ত হবে।