× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিলেটের বিপণিবিতানে গভীর রাতেও ক্রেতার ভিড়

কাওছার আহমদ, সিলেট

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২৮ পিএম

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:০৫ পিএম

ঈদ ঘনিয়ে আসায় জমে উঠেছে কেনাকাটা।  প্রবা ফটো

ঈদ ঘনিয়ে আসায় জমে উঠেছে কেনাকাটা। প্রবা ফটো

ঈদ এলেই নতুন পোশাক কেনার ঘুম পড়ে। এজন্য ক্রেতারা ছুটে যান দর্জির দোকান কিংবা বিপণিবিতানে। ফলে মার্কেটগুলো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভিড় বেড়ে যায়। ঈদ ঘনিয়ে আসায় সিলেট শহরে গভীর রাত পর্যন্ত বেশিরভাগ মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় মার্কেটের ভেতর কিংবা আশপাশের রাস্তাগুলো অসংখ্য মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর ঈদের কেনাকাটা তেমন একটা জমেনি। এবার সে অবস্থা কাটিয়ে কেনাকাটার পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপÑ এমনটা জানালেন ব্যবসায়ীরা। 

সরেজমিনে নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি, বারুতখনা, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ, লালদীঘিরপাড় ও উপশহর এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। দোকানগুলোয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পছন্দ ও দরদামে মিলে গেলেই কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে দেশে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধির ফলে ক্রেতারা ঈদবাজারে এসে একটু চিন্তাভাবনা করেই কেনাকাটা করছেন। সবকিছু ছাপিয়ে ঈদের আগমুহূর্তে কেনাবেচা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

এদিকে ক্রেতারা বলছেন, ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। এখন থেকেই মার্কেটে পোশাকসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। চাঁদরাত পর্যন্ত আরও দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই আগেভাগে ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলছেন।

জিন্দাবাজার ব্লু ওয়াটার শপিং সিটির পাইনঅ্যাপল গার্লস ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. তরিকুল ইসলাম খান জানান, এবারের ঈদে তরুণীদের সবচেয়ে আকর্ষণ হলো পাকিস্তানি ড্রেস অরগাঞ্জাতে। এই ড্রেসের দাম ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। দাম কিছুটা বেশি হলেও এর চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন নতুন ডিজাইনের ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি ড্রেস রয়েছে। এবার আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বন্দরবাজার হাসান মার্কেটের মেসার্স খান ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুল খালিক খান। পুরুষদের লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, মহিলাদের শাড়ি ও বাচ্চাদের সব ধরনের পোশাক বিক্রি করেন। ঈদবাজার নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ১৭ রমজান থেকে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো।

ঈদের কেনাকাটায় শহরের পাশাপাশি গ্রাম থেকেও ক্রেতাদের আসার কথা জানান জিন্দাবাজার আল-হামরা শপিং সিটি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন। তিনি বলেন, সব শ্রেণির ক্রেতার কথা বিবেচনা করে তার প্রতিষ্ঠান অনামিকা শাড়ি সেন্টারে বিভিন্ন কোয়ালিটির শাড়ি কালেকশন করেছেন। সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের শাড়ি রয়েছে। দেশি-বিদেশি বাহারি রঙ ও ডিজাইনের শাড়ি থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা বেশি পাকিস্তানি অরগাঞ্জাতে। আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে ধুম কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।

উপশহর মেইন রোডের লা বেলা ফেব্রিক্স বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান জানান, এবারের ঈদে ব্যবসা করে করোনাকালীন ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

সুমাইয়া বোরকা গ্যালারির ম্যানেজার হোসেইন আহমদ জানান, নতুন ডিজাইনের ইরানি, দুবাই, সৌদি আররি ও আফগানিস্তানি বোরকা থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা বেশি দুবাইর বোরকাতে। দুই হাজার শুরু করে থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত দামের দুবাইয়ের বোরকা রয়েছে। মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি অনুপাতে বিক্রি তেমন হচ্ছে না। তবে গত ঈদের চেয়ে ভালো হচ্ছে। 

পোশাকের পাশাপাশি কসমেটিকসের দোকানেও ভিড় করছেন কিশোরী থেকে শুরু করে মধ্যম বয়সি নারীরা। এমনটা জানালেন জিন্দাবাজারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী মহসিন আহমদ খান।

ঈদ উপলক্ষে মার্কেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছাড়ও ঘোষণা করেছে। লোটো জুতা শোরুমের জিন্দাবাজার শাখার ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন জানান, এবার ঈদে পুরুষদের প্রতিটি জুতায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েছেন। এতে ক্রেতা সমাগম বেড়ে গেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি বিক্রির আশা করছেন।

পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে অনেকটা অস্বস্তি রয়েছে। ঈদের শপিং শেষে কথা হয় শিক্ষক দম্পতি সাহানা-ওলিউর রহমানের সঙ্গে। এসেছেন কানাইঘাট থেকে। তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি। তাদের কাছে মনে হয়েছে ৩০ শতাংশ দাম বেড়েছে।

তানজিয়া শিশির পুষ্পা ও নুজহাত মুশতারি জুহা নামের দুই ক্রেতা বললেন, এবার পোশাকের দাম বেড়েছে। কিন্তু কাপড়ের মান আগের মতোই। নরমাল কাপড়ের দামও একটু বেশি। দুই হাজারের আন-রেডি থ্রিপিস এখন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। 

ব্যবসায়ী সুয়েব আহমদ। এসেছেন ছোট ভাইয়ের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে। বারুতখানায় ও মহাজনপট্টির কয়েকটি দোকান ঘুরে নয়াসড়কে একটি পাঞ্জাবির দোকানে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। তার কাছে মনে হয়েছে এবার ঈদে ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা