× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ওষুধ ও প্রসাধনীর জন্য পৃথক আইনের দাবি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩০ পিএম

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ২১:১৬ পিএম

 প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

ওষুধ ও প্রসাধনীকে একই আইনের আওতায় না এনে শিল্প দুটিকে আলাদা আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন প্রসাধনী ব্যবসায়ীরা। রবিবার (১৬ এপ্রিল) দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রসাধনী ব্যবসায়ীরা এই দাবি জানান।

সেমিনারে ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রস্তাবিত ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩-এর ৩১-৩৫ ধারা অনুযায়ী কসমেটিকস উৎপাদন, বিতরণ, আমদানি-রপ্তানি এবং এই কাজে নিয়োজিত কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা দোকান-মালিককে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ একই বিষয়গুলো অনুসরণ করে ‘বিএসটিআই আইন ২০১৮’-এর অধীনে কসমেটিকসের প্রয়োজনীয় সমস্ত লাইসেন্স প্রদান করে আসছে বিএসটিআই। একই বিষয়ে নতুন একটি রেগুলেটর শুধু আরেকটি স্তর তৈরি করবে এবং ব্যবসা করার খরচ ও জটিলতা বাড়াবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ’ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো আইন করা হবে না। যখনোই কোনো আইন করা হয়, তা মানুষের মঙ্গলের জন্যই করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজই হচ্ছে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের সেবা দেওয়া ও তা নিশ্চিত করা।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ’আগামী দিনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রসাধনী শিল্পের অংশীজনদের নিয়ে একটি শুনানির আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যান্ডেট হলো দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন বিষয়গুলোকে রোধ করা। আইনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’ এই আইন পাসের আগে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে কসমেটিকস সেক্টরের প্রতিনিধিদের উপস্থিত নিশ্চিতের আহ্বান করেন তিনি।

এর আগে অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ’ঔষধ ও কসমেটিক দুটো পণ্যই  সাধারণ ভোক্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাত্যাহিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তবে এ দুটি পণ্যের চাহিদা ও ব্যবহারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুটো শিল্পের জন্য যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তবে উৎপাদন পর্যায় থেকে আমদানি পর্যন্ত এ দুটি পণ্যের ব্যবহারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় একই আইনের আওতায় এনে ঔষধের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রসাধনী-সামগ্রীর কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ’কসমেটিকস ও ঔষধের জন্য একই আইন ও এর প্রয়োগ ঔষধ প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। কারণ আইন অবশ্যই ব্যবসাবান্ধব হতে হবে। এটি না হলে এই শিল্পের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে, যা কর্মসংস্থানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আমরা মনে করি।’

সাধারণত যেকোনো আইন প্রণয়ন করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও উল্লিখিত আইন তৈরির ক্ষেত্রে কসমেটিকস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন। তাই আইনটি বাস্তবায়নের পূর্বে এর প্রায়োগিক সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করে এফবিসিসিআই এই সেমিনারের আয়োজন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ’ড্রাগ আইনটি বেশ ভালো। পূর্বে অ্যান্টিবায়োটিক সবাই যে যার মতো ব্যবহার করতে পারলেও নতুন আইনের মাধ্যমে তা পারবে না। এ সময় ক্ষুদ্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।‘

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক আবদুস সাত্তার বলেন, ’দেশ, দেশের প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতার জন্য সব রকম সহযোগিতা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হতে পারবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিএসটিআই হতে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্যানেল ও উন্মুক্ত আলোচনায় যুক্ত হয়ে বক্তারা বলেন, কসমেটিকস ও ঔষধ প্রকৃতিগতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পণ্য। যেহেতু কসমেটিকস হলো ভোক্তার কাঙ্ক্ষিত সুবিধার ওপর ভিত্তি করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এবং সৌন্দর্যায়নের জন্য ভোক্তাবান্ধব পণ্য, সেহেতু এগুলো কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণত ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। অন্যদিকে ঔষধ রোগ, নিরাময় ও চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া ঔষধের ব্যবহারের সঙ্গে উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত, তাই ঔষধের ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ন্ত্রণমূলক বিধানগুলো প্রযোজ্য হয়ে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহৃত হয়। এই কারণেই এই দুই ধরনের পণ্যগুলো আলাদা আলাদা আইন ও বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করার যৌক্তিকতা ও আবশ্যকতা রয়েছে।

খসড়া আইনের ধারা ৩৫-এ মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যা বিশ্বের অন্য কোনো আইনে কসমেটিকসের জন্যে প্রযোজ্য নয় বলেও অভিযোগ করেন কসমেটিকস ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, খসড়া আইনে প্রস্তাবিত নতুন বিধানগুলো কসমেটিকস শিল্পের উৎকর্ষই শুধু বাধাগ্রস্ত করবে না, এই শিল্প পরিচালনার ব্যয়ও বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে কসমেটিকস শিল্পে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে এবং বর্তমান কসমেটিকস খাতের বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়বে। সর্বোপরি কসমেটিকস পণ্যের দামও উল্লেখজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়বে ভোক্তাসাধারণের ওপর।

বক্তারা আরও বলেন, এই আইন বাস্তবায়িত হলে নতুন কসমেটিকস বাজারে আনা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হবে এবং যার ফলে ভোক্তাদের পছন্দানুযায়ী কসমেটিকস বাজারে আনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভবপ্রায় হয়ে পড়বে। এতে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং কসমেটিকসের মূল্য বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি এমএ মোমেন বলেন, ’এ দুটি পণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম চাহিদা ও ব্যবহারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পৃথক প্রশাসন থাকা প্রয়োজন।’ এ সময় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ নুরনবী। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার, বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন সরকার, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডিএমডি ও সিইও মো. হালিমুজ্জামান, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. এমএ মুবিন খান, মিল্লাত কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের এমডি মেহফুজ জামান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, হাবিব উল্লাহ ডন, ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতারা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা