× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী

এমনভাবে বাজেট করব যাতে কোনো ঋণ নেওয়া না লাগে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:০৫ পিএম

 রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাজেট বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী                  -প্রবা ফটো

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাজেট বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী -প্রবা ফটো

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের সুসংবাদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আসন্ন বাজেট হবে জনবান্ধন। এ বাজেট হবে জনগণের সুবিধার্থে। আমরা এমনভাবে বাজেট প্রণয়ন করব, যাতে কোনো ধরনের ঋণ নেওয়া না লাগে। আগামীতে আর ঋণ নেব না।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, এবারের বাজেট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনারা ঠকবেন না। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাতীয় বাজেট বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৩তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ আজ প্রশংসা করছে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বে আজ অর্থনীতির মন্দা অবস্থা বিরাজমান। এরমধ্যেও অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এ দেশের বেসরকারি খাত। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১ থেকে ৩৫তম স্থানে এসেছে। এর অংশীদার সবাই। উন্নয়নশীল দেশ ভারত, মালয়েশিয়ার কাতারে আজ আমরাও। সবাইকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এনবিআরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এফবিসিসিআই ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা না করেই এনবিআর এসআরও ইস্যু করে। পরে এই এসআরও কার্যকর 

হলে তখন অনেক জটিলতা তৈরি হয়। তাই এসআরও করার আগে ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার দাবি জানান তিনি। 

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, কাস্টমসে অ্যাসেসমেন্ট করার জন্য আইনিভিত্তি আছে। কিন্তু কর্মকর্তারা সেটা না মেনে তারা নিজেদের মতো করেঅ্যাসেসমেন্ট করে। এ সময় শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ কমাতে অগ্রিম আয়কর ও আগাম কর রহিত করার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বিনিয়োগ, দেশীয় শিল্প ও সেবা এবং সিএমএসএমইকে শুল্ক করের যৌক্তিক প্রতিরক্ষণ; ক্ষেত্রবিশেষে অব্যাহতি বা বন্ড সুবিধা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণ; নিত্যব্যবহার্য্য পণ্যমূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা; করনীতি, কর পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের মাধ্যমে কর নেট বা করজাল সম্প্রসারণ; স্বেচ্ছায় কর প্রতিপালন হার বৃদ্ধিপূর্বক রাজস্ব আদায় তথা কর জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি; আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা এবং শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এফবিসিসিআই তাদের দাবিতে রাজস্ব আহরণ এবং রাজস্ব পলিসি কার্যক্রম পৃথক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিভাগ গঠন, মুদ্রা পাচারে সহায়ক ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা পরিপন্থি বিদ্যমান ট্যারিফ মূল্য ও মিনিমাম ভ্যালু-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন রহিত করে তদস্থলে বিনিময় মূল্য সিস্টেম চালু; প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের প্রদত্ত বন্ড সুবিধার বাইরে অন্যান্য রপ্তানিকারকের জন্য কেন্দ্রীয় বন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করা; জমি ক্রয়, নির্মাণ এবং শিল্প ও সেবা খাতের ইউটিলিটি বিলসহ সব উৎপাদনশীল খাতে প্রদেয় যাবতীয় প্রশাসনিক সেবা সম্পূর্ণরূপে পরোক্ষ করমুক্ত রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি, তালিকাভুক্ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, মৌলিক এবং দেশে উৎপাদিত হয় নাÑ এমন কাঁচামালের শুল্কহার ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা; আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে তালিকাভুক্ত পণ্য বা সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা; জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব গাড়ির শুল্কহার হ্রাস করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানকে দৃঢ় করতে ব্যবসায়িক খরচ কমিয়ে এনে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুষম বিনিয়োগ সহায়ক মুদ্রা ও শুল্ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, শিপিং খরচসহ সব ধরনের পরিবহন খরচ হ্রাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, এবারের বাজেটে সবাই খুশি হবে। উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা ছাড়াও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা