× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাজেটে নিরুৎসাহিত করা হবে বিশেষ শুল্ক সুবিধা

জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৪০ পিএম

বাজেটে নিরুৎসাহিত করা হবে বিশেষ শুল্ক সুবিধা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার বিশেষ শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ ছাড় কমেছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এ বিশেষ শুল্ক সুবিধা আরও কমিয়ে আনতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের মধ্যেও রাজস্ব বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন অব্যাহতি তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও জনগণের ভোগান্তি লাঘবের চিন্তা থাকায় একবারে সব তুলে নেওয়া সম্ভব নয় বলে আইএমএফকে জানিয়েছিল রাজস্ব বোর্ড। তবে দেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এনবিআর। তারই অংশ হিসেবে আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন পরিবর্তনের শুরু হতে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। সম্প্রতি এ খাতে অব্যাহতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এনবিআর। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা এই অব্যাহতি। আসন্ন বাজেটে কী পরিমাণ ছাড় দরকার তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্প বিকাশের স্বার্থে আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক অব্যাহতি দিয়ে আসছে সরকার। সব ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য এ সুবিধা থাকার পরও ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম ধরে এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করেও সুবিধা দিয়ে থাকে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এসব সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি বছর এনবিআর অনেক রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারবে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এ সুবিধা এখনও বহাল রাখতে চায় এনবিআর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে এনবিআর ছাড় দিয়ে আসছে। এটাকে অব্যাহতি বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগ। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া না হলে দেশে শিল্পের বিকাশ ঘটবে না। কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। তাতে স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব আদায় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে কোনো লাভ হবে না। এ ছাড়া মোবাইল উৎপাদনকারী ও পোল্ট্রি ফার্মের যে বিকাশ ঘটেছে, তাতে রাজস্ব বোর্ডের এ সুবিধা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। 

তিনি বলেন, বর্তমানে এ খাতগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে বলে মনে করছে এনবিআর। তাই এ খাত থেকে শুল্ক সুবিধা তুলে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্রিজ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) আমদানিতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশীয় শিল্প সংরক্ষণের পাশাপাশি ভর্তুকি তুলে দিয়ে রাজস্ব বাড়িয়েছে এনবিআর।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফোনের উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা আছে। আগামী বাজেটে মোবাইল ফোনের ব্যবসায়িক পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল জমা দিলে রেয়াত পায় প্রতিষ্ঠানগুলো। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ার চিন্তা করছে এনবিআর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের ভ্যাট সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এমএফএস সার্ভিস প্রোভাইডারদের চলতি অর্থবছরের বিদ্যুৎ বিলের ওপর রেয়াত দেওয়া আছে। আগামী অর্থবছরে এ রেয়াত প্রত্যাহার করার চিন্তা চলছে। এ ছাড়া বিলাসী পণ্যের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপের চিন্তা-ভাবনা চলছে। আগামী বছরে এয়ারকন্ডিশনারের ক্ষেত্রে দেওয়া সুবিধা শেষ হবে। সে হিসেবে আগামী বাজেটে এ অব্যাহতি তুলে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় নয় এমন বিভিন্ন খাতে ভ্যাট অব্যাহতি তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে এনবিআর। এটাকে ভালো উদ্যোগ বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। 

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এয়াকন্ডিশনারসহ যেসব পণ্য অতিজরুরি নয়, সেসব পণ্যে ভ্যাট সুবিধা তুলে নিলে সরকারের রাজস্ব আরও বাড়বে। এ ছাড়া শুল্ক অব্যাহতিতে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করলে সরকারের বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আসবে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এসব অপ্রয়োজনীয় সুবিধা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব ফাঁক-ফোকর রয়েছে, তা বন্ধ করা একটি ভালো উদ্যোগ বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা