× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বৈশাখকে কেন্দ্র করে জমে ওঠেনি ফুলের বাজার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২৫ পিএম

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৪২ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

স্বাভাবিক সময়ে বাঙালির উৎসব বৈশাখ ঘিরে এক সপ্তাহ আগে থেকেই ব্যস্ত হয়ে উঠত পাইকারি ও খুচরা ফুলের বাজার। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ফুলের বাজারগুলোতে নেই ক্রেতাদের আনাগোনা। ক্রেতাদের কাছে থেকে আগাম ক্রয়াদেশ না পাওয়ায় অলস সময় পার করছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুল বিক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, তিন বছর ধরে বৈশাখকে কেন্দ্র করে খুব একটা ভালো যায়নি ফুলের বাজার। করোনা এবং রমজানের মধ্যে পয়লা বৈশাখ হওয়ায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ফুলের বিক্রি নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে। এ ছাড়া এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ দাবদাহের প্রভাব পড়েছে ফুলের বাজারে। 

রাজধানীর বৃহত্তম ফুলের বাজার শাহবাগের মা-আমেনা ফুল হাউসের স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ফুলের বাজার আর আগের মতো নাই। আগে সকালবেলা দোকান খুললেই ৪ হাজার টাকা বিক্রি করে ফেলতাম। আর এখন সকালে দোকান খুলে বিকাল পর্যন্ত বিক্রি করেছি মাত্র ৫০ টাকা। এভাবে বেচাকেনা হলে চলব কীভাবে বলেন। আগে পয়লা বৈশাখের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার পাইতাম। এবার একটাও পাইনি। অথচ বৈশাখের বাকি আর এক দিন। আগে বৈশাখে দৈনিক ১৫ হাজার টাকা পর্যন্তও বিক্রি করেছি, তবে এবার কিছু নাই।’

একই সুর রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার ফুল বিক্রেতা এনামুল হক মানিকের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণে তাপ এখন আছে এতে মানুষ বাইরে বের হবে কম। যার ফলে ফুল বিক্রিটা তেমন হবে না। এ ছাড়া মানুষ রোজা রেখে ঘুরতেও তেমন একটা পছন্দ করে না। মানুষ ঘোরাফেরা করলে শখের বশে ফুল কিনে। এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ। ফুল বিক্রির বড় একটা অংশ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এবার সেই বিক্রি হবে না। অর্থাৎ সব মিলিয়ে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ৭০ শতাংশ ফুল বিক্রি কম হবে।’

ফুল কিনতে আসা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘ফুল কেনা যার যার ইচ্ছার ওপরে নির্ভর করে। এক্ষেত্রে মানুষ এখন যেকোনো জিনিস কেনার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে কিনছে। যার যে জিনিসটি খুবই প্রয়োজন তা কিনছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেউ খরচ করছে না। এ ছাড়া এবার প্রচণ্ড রোদ রয়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম রয়েছে, তাই ফুলের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়বে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে ৩ হাজার ৯৩০ একর জমিতে ৩২ হাজার ১২০ টন ফুল উৎপাদিত হয়। সংস্থাটির কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে গাঁদা ফুলের উৎপাদন ১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, গোলাপ ২১ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন, টিউব গোলাপ ৪ হাজার ১২৯ মেট্রিক টন, বেলি ৭ মেট্রিক টন, গ্লাডিওলাস ৪ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন, কসমস ৭ মেট্রিক টন, চন্দ্রমল্লিকা ১১ মেট্রিক টন, ডালিয়া সাড়ে ১২ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাবুল প্রসাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রোজার কারণে এবার ফুল বিক্রি ঠেকেছে তলানিতে। প্রথমত রমজানে পয়লা বৈশাখ হওয়ায় বিক্রি স্বাভাবিকভাবেই কমবে। দ্বিতীয়ত, ইফতার পার্টি সরকারি বিভিন্ন প্রোগ্রামও রমজানে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছর ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হলেও এ বছর তা ২০ কোটি টাকাও হবে না।

তিনি আরও বলেন, এখন এমনিতেই ফুলের সিজন শেষ পর্যায়ে। তারপরও বাগানগুলোতে গাঁদা, রজনিগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস রয়ে গেছে। বৈশাখে এসব ফুলই বিক্রি হয় বেশি। এবার এই চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা