মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৩৩ পিএম
মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে উৎপাদিত একেকটি মিষ্টি কুমড়ার ওজন কমপক্ষে ১০ কেজি। কোনো কোনোটি ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। প্রবা ফটো
দেখলেই অবাক হতে হয়, এমনই এক মিষ্টিকুমড়া সেটি। বিরল এই মিষ্টিকুমড়া কেবল আড়িয়ল বিলেই হয়। একেকটির ওজন কমপক্ষে ১০ কেজি। কোনো কোনোটি আবার ১৫০ কেজি পর্যন্ত।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় এর বীজ পাঠিয়ে মাটিতে রোপণ করে চেষ্টা চালানো হয়েছে উৎপাদনের। কিন্তু এখানকার মতো এত বড় আকারের ও সুস্বাদু মিষ্টিকুমড়া আর কোনোখানে হয়নি। বলছিলেন শ্রীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সান্ত্বনা রানী।
কিন্তু কেন এত সুস্বাদু ও প্রকাণ্ড আড়িয়ল বিলের এসব মিষ্টিকুমড়া? সান্ত্বনা রানী জানালেন, আড়িয়ল বিলে পানি থাকে ছয়-সাত মাস। এ সময় পানির নিচে জন্ম নেয় নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ। পানি শুকিয়ে গেলে এসব উদ্ভিদ পচে মাটির সঙ্গে মিশে উৎকৃষ্ট এক জৈবসারে রূপান্তরিত হয়। ফলে এখানকার মাটি হয়ে ওঠে সুনিষ্কাশিত জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দোঁআশ বা এঁটেল-দোঁআশ মাটি।
এই কৃষি কর্মকর্তার মতে, এমন মিষ্টিকুমড়া উৎপাদনের পেছনে ভূমিকা রাখছে আড়িয়ল বিলের এই জৈবসারসমৃদ্ধ মাটি। প্রাকৃতিক জলজভূমির আধার এ বিলের মাটিতে আলাদাভাবে জৈবসার ব্যবহার করতে হয় না। এখানে অনায়াসেই প্রতিবছর ধানের পাশাপাশি কুমড়া, উচ্ছেসহ নানা রকম সবজি উৎপন্ন হয়ে থাকে।
প্রতিবছর ৮-১০ হাজার মেট্রিক টন কুমড়া উৎপন্ন হয় আড়িয়ল বিলে। বিক্রি হয় ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোতে। বিলের পাশে গাদিঘাটে বসেও চাষিরা সরাসরি বিক্রি করেন এই কুমড়া। চলতি কুমড়া উত্তোলন মৌসুমে বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় মহাখুশি চাষিরা।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ আড়িয়ল বিলের শ্রীনগর উপজেলার গাদিঘাট, আলমপুর, শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালীসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন অংশে চলতি বছর ২২২ হেক্টর জমিতে ৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন কুমড়া উৎপন্ন হয়েছে।
স্থানীয় কুমড়াচাষিরা জানালেন, প্রতিবছর শীতের শুরুতে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে আড়িয়ল বিলের বিস্তীর্ণ উঁচু ভূমিতে মিষ্টিকুমড়ার বীজ বপন করেন তারা। ফেব্রুয়ারি-মার্চে এই কুমড়া ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করা হয় বাজারে। দেখতে যত বড়ই হোক না কেন, এই কুমড়া চাষে কৃষকদের তেমন একটা বিনিয়োগও করতে হয় না। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছরের কুমড়ার আকার ও উৎপাদন খানিকটা কম।
তার পরও কৃষকরা কুমড়ার বেশ ভালো দামই পাচ্ছেন বলে জানালেন চাষি মো. বিল্লাল। তার মতে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব ও বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি বছর কুমড়ার আকার ও উৎপাদন কম হয়েছে।
আড়িয়ল বিলের জমি থেকে কুমড়া উত্তোলনের পর পাইকারদের কাছে ১৮-২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন স্থানীয় চাষিরা। পাইকাররা সেগুলো পরিবহন করে ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি হাটে ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীদের কাছে। খুচরা পর্যায়ে যা বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকা কেজিতে।
কৃষক আমির হামজা বলেন, বিল থেকে কুমড়া তোলা এখন শেষ পর্যায়ে। বাজারে এবার কুমড়ার দাম ভালো। বিলের সব কুমড়াচাষিই এতে মহাখুশি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা সান্ত্বনা রানীও জানালেন, এবারের উৎপাদন কম হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব। তিনি বলেন, “মৌসুমের শুরুতে কুমড়াগাছে অজানা ভাইরাসের আক্রমণের খবর পাই আমরা। পরে কৃষি বিভাগ সেটিকে ‘মোজাইক ভাইরাস’ হিসেবে চিহ্নিত করে রোধের ব্যবস্থা করে।”