× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বৈদেশিক ঋণ পেতে তোড়জোড়

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ০৮:৪৮ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক ঋণ পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। সম্ভাবনা আছে এমন সব প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। গত দুই মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তার প্রতিফলন দেখা গেছে। যে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বৈদেশিক ঋণসংশ্লিষ্ট।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে বেড়েছে সকল পণ্যের দাম। তাই আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও অন্যান্য মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে তার চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে। তাই ডলার সংকট কাটাতে বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পগুলো অনুমোদনে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া দেশি অর্থায়নের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে না।

এ বছরের পাঁচটি একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মোট ৫০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টিই বৈদেশিক ঋণের। এর মধ্যে ১৯টি একেবারে নতুন প্রকল্প। যেখানে মোট ৫০টি প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। আর নতুন ১৯ প্রকল্পে ২২ হাজার ২৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে।

সংশোধিত বৈদেশিক ঋণের ১১ প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এদিকে এর আগে যেখানে দুই মাসেও একটি একনেক সভা হয়নি সেখানে গত এক মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রকল্প অনুমোদন দিতে চারটি সভা হয়েছে। এমনকি আগামী মঙ্গলবারও একনেক সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এক একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনুমোদিত ১১টি প্রকল্পের আটটি বৈদেশিক ঋণের। এর ৭টি নতুন প্রকল্প। সাত প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা।

গতকাল অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পগুলোর মধ্যে একসেলেরাটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া এক্সেস বাংলাদেশ ফেজ-১ প্রকল্পটি ৩ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক এবং বাকি ৬৪৬ কোটি টাকা দেবে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটিতে ২৮৮৬ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। পরিবেশ অধিদপ্তরের বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফর্মেশন বেস্ট প্রকল্পেও ২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ এবং এএফডি। এ ছাড়া এডিবির ঋণে সিলেটে বন্যা পুনর্বাসনের জন্য ১ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে একনেকে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের ৪ হাজার ৩২৩ কোটি টাকার রিভার প্রকল্প। প্রকল্পটিতে ৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকার দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা দিচ্ছে জাইকা। কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের ২৫টি শহরের উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা দিচ্ছে এআইআইবি।

এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে তাড়াহুড়া করে বৈদেশিক ঋণের প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য একেএম ফজলুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোয় যে ঋণ নেওয়া হচ্ছে সেগুলো কনসেশনাল লোন। এর সুদের হার খুবই কম। তাই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছে।

এত বেশি বৈদেশিক ঋণের প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের সক্ষমতা আছে বলেই বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী আমাদের ঋণ দিচ্ছে। অনেক দেশ আছে যারা ঋণ চেয়েও পাচ্ছে না। যেসব ঋণ নেওয়া হচ্ছে সেগুলোর সুদও অনেক কম।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বেশি বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শুধু বৈদেশিক ঋণের প্রকল্প নিলেই হবে না। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে ঋণ নিয়ে পাইপলাইনে পড়ে থাকবে। যে ঋণ নেওয়া হচ্ছে সেগুলো যদি ভালো প্রকল্পে হয় তাহলে সমস্যা নেই। কারণ বিশ্বব্যাংক বা এডিবির ঋণে সুদ একেবারেই কম।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা