প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে। শ্লথ হয়ে আসছে অর্থনীতির চাকা। আগামী পাঁচ বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে মাত্র ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে কম বলেও জানিয়েছে আইএমএফ।
আইএমএফের মতে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো আরও সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশের জন্য আরও সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। ওয়াশিংটনে আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকের আগে আইএমএফের প্রধান বলেন, ’সামনের পথ বন্ধুর ও কুয়াশাচ্ছন্ন। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন সাহায্য চাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এই বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য ধনী দেশগুলোর আরও অনেক সমর্থন অপরিহার্য। এমনকি তাদের কম খরচে ঋণের ব্যবস্থা করাও দরকার।’
করোনা মহামারির ধাক্কা-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ধারাবাহিকভাবে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েই চলেছে। গত বছর করোনা-উত্তরকালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেকে নেমেছিল। সে সময় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ছিল গত দুই দশকের মধ্যে রেকর্ড। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে শক্তিশালী চাকরির বাজার থাকা সত্ত্বেও এই বছর মন্থরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আইএমএফ বলছে, চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নামবে। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্ধেক নেমে আসবে। এ ছাড়া উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর ৯০ শতাংশের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই মুদ্রার মান ধরে রাখতে ব্যাংকঋণে সুদের হার বাড়িয়ে চলেছে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু মার্কিন ডলারের মান বাড়ায় তা অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে জর্জিয়েভা বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর আঘাত। যেখান থেকে বের হওয়া নিম্ন আয়ের দেশগুলোর পক্ষে কঠিন। এর ফলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা আরও বাড়তে পারে।’
দুর্বল দেশগুলোর জন্য সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে জর্জিয়েভা আরও বলেন, ‘যত দিন আর্থিক চাপ সহনীয় থাকে, কর্তৃপক্ষের উচিত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সুদের হার বাড়ানো অব্যাহত রাখা। কারণ এখন যদি তারা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সক্ষমতার অসামঞ্জস্যতার কারণে তাদের নতুন অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।’
এদিকে ২০০৫ সালের পর এবার খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) তাদের এক পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। ২০২২ সালে তীব্র খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে লড়াই করা লোকের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। ২০১৯ সালে যেখানে পৃথিবীব্যাপী চরম খাদ্যনিরাপত্তায় ভোগা লোকের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ, সেখানে বিদায়ি বছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৫০ লাখে। সামনের মাসগুলোতে খাদ্যশস্যের বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্যসংকট কাটবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যেই ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করা দুর্বল গোষ্ঠীর মানুষের জন্য আরও খারাপ সময় এসেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত ক্যারি ফাউলার বলেন, ‘আমি মনে করি চলতি বছর আমাদের জন্য একটি কঠিন বছর হতে যাচ্ছে। এ সময়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।’
সূত্র : বিবিসি ও সিএনএন