× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদ মৌসুমেও ক্রেতা খরায় প্রাণ নেই ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লিতে

পাবনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:২৬ পিএম

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫৫ পিএম

বসে অলস সময় কাটাচ্ছে তাঁতিরা। প্রবা ফটো

বসে অলস সময় কাটাচ্ছে তাঁতিরা। প্রবা ফটো

ঈদ মৌসুম যেখানে প্রতিবার থাকে বেচাবিক্রির রমরমা অবস্থা, সেখানে এবার ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লি যেন গড়ের মাঠ। পল্লি এলাকার প্রায় সব দোকানই ক্রেতাশূন্য। অলস সময় পার করছেন তাঁতি এবং দোকানিরা। কেউ বসে মোবাইলে ভিডিও দেখছেন, আবার কেউ বা করছেন গল্প।

শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে দেখা যায়, কোনো দোকানেই উল্লেখযোগ্য বেচাকেনা নেই। এ অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ১৫ রোজা চলে গেলেও ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়নি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বেনারসি পল্লিতে। এবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতির কারণে এ মার্কেটমুখী হচ্ছেন না ক্রেতারা। আশা ছিল, মাসের শুরুতে ক্রেতাদের পকেটে বেতন-বোনাস ঢুকলে কিছুটা কেনাকাটা বাড়বে। কিন্তু মাস শুরুর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও বিক্রি নেই।

কারখানা মালিক ও নাসিম শাড়ি কুটিরের মালিক নাসিম বলেন, ‘মন্দাভাব কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারব ভেবে পাচ্ছি না। ঈদের বেচাকেনায় এমন খরা পরিস্থিতি হবে আমরা কেউই কল্পনা করতে পারিনি।’

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনারসি পল্লি ঈশ্বরদীতে। ভারতীয় নামী দামী ব্রান্ডের শাড়ির তুলনায় ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লিতে উৎপাদিত বেনারসি-কাতান শাড়ির মান অনেক উন্নত। এখানে বিন্দিয়া কাতান, পিওর বেনারসি শাড়িতে বিশেষ কারুকাজ, আনারকলি ও ফুলকলি ছাড়াও নেট কাতান, পিওর কাতান, ওপেরা কাতান, কুচি জামদানি তৈরি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে যে প্রাণচাঞ্চল্য ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লিতে ফিরে আসার কথা ছিল, তা আসেনি।

জামান টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক শরিফুল আলম বলেন, ‘ফতেহ মোহাম্মদপুরে বেনারসি তৈরির দক্ষ কারিগর রয়েছে। আমার দুটি কারখানায় ৩০টি তাঁত আছে। শাড়ির অর্ডার পাচ্ছি না। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। দৈনন্দিন কেনাকাটা করতেই হাঁপিয়ে উঠেছে।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব থাকলেও এবারে ঈদকে সামনে রেখে ভালো ব্যবসার আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাঁতি ও দোকানিরা। দীর্ঘ দুই বছর লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এদিকে বেনারসি উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বেনারসি পল্লির বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও ঈদকে সামনে রেখে তাঁতিরা বিভিন্ন সমিতি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চালু করেছেন কয়েকটি কারখানা। স্বপ্ন ছিল ঘুরে দাঁড়াবার। 

তাঁতি জাবেদ বেনারসি বলেন, ‘ঈশ্বরদীর বেনারসির সুনাম ও চাহিদা থাকায় ফতেহ মোহাম্মদপুরের আশেপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু শাড়ির দোকান। কিন্তু এবারে কঠিন পরিস্থিতি। অনলাইনে ভারতীয় শাড়ি কেনাকাটার কারণে আমাদের খরিদ্দার নেই।’

ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ওবাইদুর রহমান জিলানী বলেন, ‘ঈশ্বরদীর উৎপাদিত শাড়িগুলোর গুণগত মান, সৌন্দর্য, রং, নকশা বা ডিজাইন অন্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো। তাই এখানকার বেনারসি ও কাতানের চাহিদাও রয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা