× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এইচএস কোডের জরিমানা থেকে সরে আসার চিন্তা

জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মিস ডিক্লারেশন বা মিথ্যা তথ্যে পণ্য আমদানিতে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান থেকে সরে আসার কথা ভাবছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বিষয়টি সুরাহা হতে যাচ্ছে। এনবিআরের বিশেষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রসঙ্গত, পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত একটি নাম হারমোনাইজড সিস্টেম। বৈশ্বিক পণ্য পরিচিতির এই কৌশলকে সংক্ষেপে এইচএস কোড বলা হয়। এই এইচএস কোড নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের অন্ত নেই। সম্প্রতি এনবিআর আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী সংগঠনের মুখেই ছিল এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শুল্কায়নে মিস ডিক্লারেশন সংক্রান্ত ধারায় বড় ধরনের জরিমানার বিষয়টি।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সারা বিশ্বে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশন (ডব্লিউটিও) এইচএস কোড প্রচলন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে আন্তঃবাণিজ্য পরিচালনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। আমাদের দেশে আমরা যে পণ্যকে কলম বলছি, দেখা যাবে চীনে বা জাপানে সেই কলমের নাম ভিন্ন। এইচএস কোডের উদ্দেশ্য হলো একটি কোডের মাধ্যমে যাতে যেকোনো দেশের কাস্টমস বুঝতে পারে এই পণ্যটির নাম কলম। আবার যতই সুরক্ষা নেওয়া হোক না কেন, এইচএস কোডের সমস্যা শতভাগ সমাধান করা কোনোভাবে সম্ভব হয় না।

তারা জানান, আগে কলম বলতে আমরা বুঝতাম শুধুমাত্র লেখার কলম। এখন কলম বলতে এখানে পেনড্রাইভও যুক্ত থাকে, ক্যামেরাও যুক্ত থাকে। ব্লুটুথ, ওয়াইফাই তো আছেই। সেখানে যদি সেই একই কলমের এইচএস কোড দিয়ে শুল্কায়ন হয়, তাহলে তো হয় না। এভাবেই আসলে এইচএস কোডের বদলগুলো হয়ে থাকে।

বর্তমানে কাস্টমস আইনের ৩২ ধারার মিস ডিক্লারেশনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবেই দেখে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলে এসেছেন, এতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয়টি নিয়ে আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা না থাকায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর তা নির্ভর করে। 

দেখা গেল, এনবিআরের দেওয়া একটি সুবিধার আওতায় কেউ পণ্য আমদানি করলে, সেটি ভিন্ন এইচএস কোডে মূল্যায়ন করা হয়। তখন আমদানিকারক সরকারের দেওয়া সুবিধা তো পায়ই না, মিস ডিক্লারেশনের ধারায় পড়ে উল্টো ২০০ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়।

তবে এনবিআরের কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, উদাহরণস্বরূপ একজন ব্যবসায়ী চীন থেকে একটি কাঁচামাল এই দেশে আমদানি করবেন। দেখা গেল একই পণ্য হওয়ার পরও চীন ও বাংলাদেশে পণ্যটির এইচএস কোড ভিন্ন। সেক্ষেত্রে চীন থেকে আসা পণ্যটি বাংলাদেশে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিষযটিকে দেখা হয় মিস ডিক্লারেশন হিসেবে। আইন অনুযায়ী, ২০০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হয়েছে আমদানিকারককে। অথচ এখানে আমদানিকারকের কিছুই করার ছিল না।

তারা আরও জানান, বিষয়টি সমাধানে এমন আমদানির ক্ষেত্রে প্রথমবার ছাড় দেওয়া হবে। কোনো ধরনের জরিমানা করা হবে না। কিন্তু প্রথমবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে না পারলে সেক্ষেত্রে ২০০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হবে। আবার এই জরিমানা একবারে তুলে নেওয়া যায় কি না, তাও আলোচনার টেবিলে আছে। তবে একবার ছাড় কিংবা একেবারেই ছাড়Ñ যেকোনো একটি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এইচএস কোড নিয়ে হয়রানি ও জটিলতার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন আমদানিকারকরা। অভিযোগ রয়েছে, বিচিত্র ধরনের পণ্য, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এইচএস কোড ও কাস্টমস ভ্যালুয়েশন নিয়ে কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে স্বেচ্ছাধীন (ডিসক্রেশনারি) ক্ষমতা থাকায় জটিলতার মুখে পড়ছেন আমদানিকরা। এতে হয় বাড়তি শুল্ক গুনতে হচ্ছে, নয়তো কর্মকর্তাদের খুশি করতে হচ্ছে। 

১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের ১৫৬ (১)-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩২-এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যে পণ্যের ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ হইয়াছে সেই পণ্যমূল্যের অনধিক তিনগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত পণ্যও বাজেয়াপ্ত যোগ্য হইবে; এবং কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বৎসর মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অথবা উভয় দণ্ডে অধিকতর দণ্ডনীয় হইবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সুলতান খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই আইনের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কথা বলেছি। এটা একটা কালো আইন। আশা করি এবারের বাজেটে এর পরিবর্তন আসবে।

জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভরসা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এটাকে বলা যায় আমাদের ওপর কাস্টমস ডিপার্টমেন্টের জুলুম। আমার পেপার বা পেপার মেটারিয়ালের বিষয় তো একই। এখানে কোনোরকম একটু ভুল হলে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলবে। আর তার প্রতিক্রিয়া বাজারের ওপর পড়বে, সেটা তো ভালো না। এর অবসান হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা