প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫৪ এএম
সবজির বাজার। ফাইল ফটো
রমজান মাস এলেই বরাবরই সব ধরণের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। তবে এবারের চিত্র একেবারেই আলাদা। তাই পণ্যের দাম না বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
জানা যায়, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রমজানের আগে থেকেই সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে বাড়েনি কোন পণ্যের দাম। এতে রোজার মাসকে কেন্দ্র করে দাম বৃদ্ধির যে প্রবণতা তৈরি হয় এবার তা খুব একটা চোখে পড়েনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার ও যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা সাধারণের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, রমজান উপলক্ষ্য করে পণ্যর দাম না বাড়ায় বেশ খুশি তারা।
এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের ক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, ‘সত্যি বলতে খুব ভয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম সব জিনিসের দাম রোজাকে ঘিরে আরেক দফা বাড়বে। এবার তা বাড়েনি। যা বাড়ার রোজার আগেই বাড়ছে। সেই দামেই বাজারে এখন সব জিনিস বিক্রি হচ্ছে।’
মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারের ক্রেতা আব্দুর খালেক মিয়া বলেন, ‘রমজান আসলেই যে দাম বাড়ে এটা এবার হয়নি। বাজার আগের মতোই আছে। এভাবেই যদি কার্যকর উদ্যোগ সব সময়ের জন্য নেওয়া যায় তবে কেউ অসাধু উপায়ে দাম বাড়িয়ে ব্যবসা করতে পারবে না। এজন্য দরকার কঠোর পদক্ষেপ এবং বাজার তদারকি ব্যবস্থা।’
আর শনির আখড়া কাঁচাবাজারের ক্রেতা মোনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবার রমজানে দেখি বেগুন, শষার দাম খুব বেশি থাকে। এবার কিন্তু বেশি নয়। দুটি পণ্যেরই ৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ দাম বৃদ্ধির যে শঙ্কা তা এবছর অনেকটাই কম ছিল।’
রমজানের আগে অস্থির হয়ে উঠা ব্রয়লার মুরগির দাম এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। যা রোজা শুরুর এক দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকায়। সোনালি মুরগি রোজার আগে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। অপরিবর্তীত রয়েছে গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং ডিমের দাম। বাজারে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায় আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ফার্মের লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়, আর সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
মুরগির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের জননী মুরগি হাউসের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘মুরগি এখন পাইকারি বাজারে কম দামে পাচ্ছি তাই কম দামে বিক্রি করতে পারছি। এতে বেচাকেনাটা ভালো হয়।’
বাজারে স্বভাবিক রয়েছে মাছের দাম। আকারভেদে প্রতিকেজি ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া শিং মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৭০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বাজারে প্রতি কেজি সিম ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা মফিজুর রহমান বলেন, ‘সবজির দাম উঠা নামা করে সরবরাহের ওপর। এখন কিছুটা সরবরাহ ভালো তাই বাজারে অন্যান্য সময়ের চেয়ে দামটাও একটু কম আছে।’