নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:০৮ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:০৯ পিএম
ঈদ উপলক্ষে জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পাইকারি পোশাকের বাজার। প্রবা ফটো
ঈদ উপলক্ষে জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পাইকারি পোশাকের বাজার। বিক্রেতারা জানান, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পোশাক তৈরির কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ বছর পোশাকের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে রমজানের শুরু থেকেই পাইকারি বাজারে লোকসমাগম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পাইকারি পোশাক প্রস্তুতকারক মার্কেটটি গড়ে উঠেছে ৯টি মার্কেটের সমন্বয়ে। সেখানে পাঁচ শতাধিক দোকানে প্রায় ১২ হাজার দর্জি ঈদ উপলক্ষে দিনরাত কাজ করছেন। এই মার্কেট থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় পোশাক কিনে নিয়ে যায় পাইকারি ক্রেতারা। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সব অঞ্চলের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পোশাকের বড় একটি অংশের জোগান দেওয়া হয় এই মার্কেট থেকে।
সেখানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মেয়েদের থ্রি পিস, কামিজ, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাইকারি দামে বিক্রি হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে বিক্রেতারা দোকানে বাহারী ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছে। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা মূল্যের তৈরি পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে ঈদ হবে বলে চায়না টিস্যু স্ল্যাবের ও ভারতীয় সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাকের চাহিদা বেশি।
মার্কেটের দর্জি শ্রমিক রহমান জানান, আমাদের খুবই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত ৩টা, ৪টা পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। সারা দেশ থেকে পোশাক কিনতে লোকজন আসছে এবং কিনে যাচ্ছে।
আরেক দর্জি শ্রমিক রনি জানান, পোশাকে নতুন নতুন ডিজাইনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করছি। মেশিনের সাহায্যে তারা পোশাকে আনছেন নানা ডিজাইন। পাশাপাশি দ্রুত পোশাক ডেলিভারির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মার্কেটের বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১০০ টাকার কাপড় এ বছর ১৫০ টাকা হয়ে গেছে। কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় পোশাকের দাম বেশি হচ্ছে। আর পোশাক তৈরির খরচ বেশি হওয়ায় আমাদের ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি একটু কম। এ বছর নতুন করে পোশাক বের হয়েছে প্লাজো, গারারা, সারারা।
আরেক বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, ঈদের বেচাকেনা শবেবরাতের পর থেকেই শুরু হয়েছে। এই মার্কেট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন পোশাক কিনে নিয়ে যায়। বর্তমানে কাপড়ের মূল্য বেশি হওয়ায় নতুন পোশাকের দাম বেশি। তাই ক্রেতা সমাগম কিছুটা কম। তবে সব দিক দিয়ে বেচাকেনা ভালো।
সিলেট থেকে আসা এক ক্রেতা আসাদ জানান, গত বছর যে পণ্যটা কিনতাম ১০ ডজন এবার সেটা কিনছি তিন ডজন। কাপড়ের দাম বাড়তি যার কারণে মালের দাম বেশি। কিনতে না পারলে বিক্রি করব কীভাবে।
রংপুর থেকে পাইকারি পোশাক কিনতে আসা হিতেন চন্দ্র বর্মন বলেন, এই মার্কেট থেকে সুলভ মূল্যে পোশাক পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছরই রংপুর থেকে খুচরা ক্রেতাদের জন্য পোশাক কিনতে আসি। এবার পাইকারি পোশাক অল্প করে কিনেছি। পোশাকের দাম বেশি। তবে পোশাকের ডিজাইন, রং ও কাপড়ের নতুনত্ব থাকায় আশা করা যায় বিক্রি কিছু্টা ভালো হবে।
আরেক ক্রেতা সুজন জানান, প্রতিবছর এই পাইকারি মার্কেট থেকেই ঈদের পোশাক কেনা হয়। কারণ ঢাকা থেকে কিনতে গেলে দাম একটু বেশি পড়ে। এই মার্কেটের অধিকাংশ পণ্য ঢাকায় চলে যায়। তাই আমরা এখানে আসলে প্রতি পিসে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে কিনতে পারি।
এখানে ভালো কোয়ালিটির পণ্য সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকের ডিজাইনের মতো পোশাক এখান থেকে পাওয়া যায়। যার কারণে এই মার্কেট থেকে পোশাক কিনে ক্রেতাদের চাহিদা মিটানো যায়। তাই এবার পোশাকের দাম বেশি তারপরও কিনতে হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় কম কিনছি।
দেওভোগ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল দেওয়ান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের বেচাকেনা খুবই ভালো। পাইকারি পোশাক হওয়ায় রমজানের শুরুর দিকেই ৭৫ ভাগ বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি ২৫ ভাগ বিক্রি করে আমাদের টার্গেট পূরণ হবে। আশা করছি ২৫০ কোটি টাকার ওপরে পোশাক এবার ঈদ উপলক্ষে বিক্রি হবে। ঈদ উপলক্ষে এই মার্কেটে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই বাজারে সুলভ মূল্যে প্রস্তুতকারক পোশাক বেচাকেনা চলে।