প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে ৪৬৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে ৪ হাজার ১৭২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, তৈরি পোশাক খাত থেকে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ খাত থেকে চলতি বছরের জুলাই থেকে মার্চে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার। যেখানে, নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৯১৩ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭১১ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। এতে নিট পোশাকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশে। একই সঙ্গে এ সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৬১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে ওভেন পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশে।
রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক পণ্যেও। ইপিবির তথ্য বলছে, জুলাই থেকে মার্চ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং প্লাস্টিক পণ্যে প্রায় ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত ৯ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৯১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। আর প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কৃষি পণ্যে ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ, রাবারে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ২১ দশমিক ২৩ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।
ইপিবির তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০২ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৪৬৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম।
রপ্তানি আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রপ্তানি খাত কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। ২০২৩ সাল কিছুটা চাপে যাবে। তবে ২০২৪ সালটা ভালো যাবে বলে আশা করছি। বর্তমান সংকটগুলো কাটিয়ে উঠার ওপর নজর বাড়াতে হবে। উৎপাদন খরচ ও মূল্যস্ফীতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন উদ্যোক্তারা।’