× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আসছে বাজেটে সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে

আসিফ শওকত কল্লোল

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৩ ১৩:১২ পিএম

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৩ ১৫:২০ পিএম

আসছে বাজেটে সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি বৈদেশিক ধাক্কার কারণে মোট সুদ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে ২৭ শতাংশ। এর পেছনের কারণগুলো হলো-- মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, সাম্প্রতিক লাইবর রেট বেড়ে যাওয়া, মার্কিন ট্রেজারির সুদের হার বৃদ্ধি এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি। 

ফলে আগামী বাজেটে মোট সুদ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ সুদের পরিমাণ ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে আগামী কয়েক বছরে ভর্তুকি শূন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে পড়েও আসছে অর্থবছরে প্রণোদনা ও ভর্তুকির আকার ৩৫ শতাংশ বাড়াচ্ছে সরকার। ফলে আগামী অর্থবছরে মোট প্রণোদনা ও ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা বেড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। চলতি অর্থবছর এর আকার আছে ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।

আগামী ৫ এপ্রিল আর্থিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে বাজেট, সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও উন্নয়ন বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রতি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের সচিবরা এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বৈদেশিক শকের কারণে মোট সুদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাবে-- এ বিষয়ে আমাদের করণীয় নেই বললেই চলে। বৈদেশিক ধাক্কার উদ্ভব হয়েছে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে।

তিনি আরও বলেন, আইএমএফের শর্তের জন্য আমাদের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। আগামী বছর থেকে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অভ্যন্তরীণ দাম নির্ধারণ করতে হবে। শর্ত অনুসারে ২০২৬ সালের একপর্যায়ে বাজেট ভর্তুকিশূন্য হয়ে যাবে। কিন্তু আগামীতে কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশের অর্থনীতিতে কৃষিতে অবদান অন্যান্য খাতের থেকে অনেক বেশি। কোভিড মহামারির সময়ে দেশকে বাঁচিয়েছে আমাদের কৃষি।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জালের পরিধি বাড়ানো এবং সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে চলেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বোঝা চাপবে জনগণের ওপর।

এটি বর্তমান বাজেটে ২০২২-২৩ অর্থবছরের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র-- যেখানে সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। বর্ধিত সরকারি ভর্তুকি সত্ত্বেও গ্রাহকদের এই বছর এক দশকের উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ভর্তুকির চাহিদা বাজেটে মূল ভর্তুকি বরাদ্দের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার শর্তপূরণের জন্য সরকার সময় সময় গ্যাস ও বিদ্যুতের শুল্ক বৃদ্ধি করে চলেছে, যা ইতোমধ্যেই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির দ্বারা বিপর্যস্ত ভোক্তাদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আর্থিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার চলতি মূল বাজেটের আকারের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। সেই অনুসারে আগামী বাজেটের আকারটা দাঁড়াচ্ছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে উন্নয়ন বাজেট মাত্র ৬ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। আগামী অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকার জ্বালানি ছাড়া অন্যান্য খাতে ভর্তুকি দিলে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের চুক্তির কোনো ব্যত্যয় হবে না।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানিতে সরকার আইএমএফের ফর্মুলা অনুযায়ী দাম বাড়িয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে ফর্মুলা অনুযায়ী দুই বা তিন মাসভিত্তিক সমন্বয় করতে হবে; যা অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় কীভাবে উপস্থাপন করা হয় তা দেখার বিষয়।’

সুদ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো তাদের চলতি ঋণের সুদের হার বাড়ায়নি। কারণ এসব সুদ চুক্তির মাধ্যমে হয়েছে। তবে টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ায় এই খাতে বাড়তি ব্যয় হবে। তাই সুদ পরিশোধের অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা