প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:৪০ পিএম
পূর্ব লন্ডনের সুপারশপগুলোতে ক্রেতা সমাগম কমেছে। এর মধ্যে ট্রলি নিয়ে কেনাকাটা করছেন এক নারী। ছবি : রয়টার্স
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ। যার প্রভাব পড়ছে দেশটির খুচরা পণ্যের বাজারে।
সেখানে নিত্যপণ্যের বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও পোশাকসহ অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি কমেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পুরনো পণ্যের কেনাবেচা।
যদিও সদ্য যোগদান করা প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস দেশটির চলমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাজ্যে গ্রাহকপ্রতি গড়ে জীবনযাপন ব্যয় বেড়েছে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২১ সালের আগস্টের তুলনায় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিক্রি কমেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, পোশাকের খুচরা বিক্রি কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। পারিবারিক খরচ মিটিয়ে বিদেশ ভ্রমণের হারও কমেছে।
সম্প্রতি ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বার্কলেকার্ডের এক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্য এতটাই বেড়ে গেছে যে, তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় বা বিলাস পণ্যের দিকে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে মানুষ বাড়তি পোশাক কেনার কথাও চিন্তা করতে পারছে না।
সুপার মার্কেটের তুলনায় খুচরা বাজার ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে জানিয়ে দেশটির খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন খুচরা বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। যারা আগে সুপারমার্কেটগুলো থেকে পণ্য কিনত তাদের একটা বড় অংশ সেখানে যাচ্ছে না। গত এক মাসেই খুচরা বাজারে ক্রেতার সংখ্যা গত বছরের আগস্টের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে।
মূল্যস্ফিতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুরনো পণ্য কেনার প্রবণতা বেড়েছে বলেও সংগঠটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। লাইক-ফর-লাইক অর্থাৎ পুরনো একটি পণ্য দিয়ে আরেকটা পণ্য নেওয়া অথবা পুরনো পণ্য কেনায় আগ্রহ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে। তবে সেটাও জুলাইয়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
মূল্যস্ফীতির ভয়াবহতা মানুষরে জীবনকে ব্যহত করছে জানিয়ে সংগঠনটি বলছে, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে মানুষের জীবনে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা খুচরা বাজারে সামান্য বিক্রি বৃদ্ধি দিয়ে আড়াল করার সুযোগ নেই।
এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পোশাক বিক্রির হার কমে যাওয়া বড় বিপদের একটি নিদর্শন মাত্র। কিছুদিনের মধ্যেই তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় সব পণ্য বিক্রেতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবে কারণ এগুলো কেনার মতো যথেষ্ঠ ক্রেতা বাজারে থাকবে না।
বার্কলেকার্ড প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, এখন পর্যন্ত দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষের এই দুর্বিষহ অবস্থা অতিক্রম করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা এই যে জুলাইয়ে এই সক্ষমতার হার ছিল ৬৬ শতাংশ যা এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ৬ শতাংশ।
এ অবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স বলছে, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে জুলাই মাসে ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে ব্রিটিশরা লড়াই করছে। তবে এভাবেই যদি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ বেড়ে ২২ শতাংশের বেশি হতে পারে।
সংকটময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে , ব্রিটেনের অর্থনীতি বছরের শেষের দিকে মন্দার দিকে ধাবিত হবে এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তাদের ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।
প্রবা/রাই/ এসআর