× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আর্থিক সংকট

সুইস ব্যাংক নিচ্ছে ৫ হাজার কোটি ডলারের ঋণ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৩ ১৯:৩৪ পিএম

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী ব্যাংক খাতের অস্থিরতার চিত্র প্রতিদিনই সামনে আসছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ফলে এ খাতের বিরূপ প্রভাব যেন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পরপর দুটি ব্যাংকের পতনের পর এশিয়া এবং ইউরোপের ব্যাংকগুলোর শেয়ারের সূচক কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এবার অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে বহুল আলোচিত সুইস ব্যাংক (ক্রেডিট সুইস)। ব্যবসাকে শক্তিশালী এবং সহজ করার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার ঋণসহায়তা চাওয়ার কথা জানিয়েছে আলোচিত ব্যাংকটি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমৃদ্ধশালী সুইস ব্যাংক অর্থ পাচারের অভিযোগ, গুপ্তচরবৃত্তিসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছে। তবে এবার নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্যাংকটি। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গত বুধবার তাদের শেয়ারের সূচক কমেছে ২৪ শতাংশ। ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এখন ঋণ নিতে যাচ্ছে তারা। 

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এরই মধ্যে ক্রেডিট সুইস এবং সুইস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। যদিও সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ক্রেডিট সুইসের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা করতে প্রস্তুত তারা।

সুইস ব্যাংকের এই আর্থিক সংকটের বিষয়ে জাপানের টোকিওর কেইও ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক সায়ুরি শিরাই বলেন, ‘ক্রেডিট সুইসের উন্নয়নে ছোট ছোট ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে। কারণ এসব ব্যাংক অনেক সময় তাদের অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা রাখে। এখন যেহেতু ছোট ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে, তাই এর প্রভাব এড়াতে পারছে না ক্রেডিট সুইস।’ 

সামনের দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্থা ও স্টার্ট-আপগুলোও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে উল্লেখ করে সায়ুরি শিরাই আরও বলেন,  ‘বিনিয়োগকারী এবং ঋণদাতারা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। তাই ব্যাংকগুলো সামনে তহবিল সংকটে পড়তে পারে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী ছোট এবং মাঝারি আকারের সংস্থা এবং স্টার্ট-আপগুলোতেও তৈরি হতে পারে তহবিল সংকট।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়াকে ২০০৮ সালের পরে আমেরিকার বৃহত্তম ব্যাংকিং সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সিগনেচারের ঘটনাকে বলা হচ্ছে সে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক বিপর্যয়। তবে এই পরিস্থিতি সামলাতে সপ্তাহজুড়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ, আমানত বীমা কর্তৃপক্ষ ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি) এবং অর্থ দপ্তর। দেশটির অর্থ সচিব জ্যানেট ইয়ালেন ঘোষণা করেন, দুই ব্যাংকেরই সব গ্রাহক তাদের আমানত তুলতে পারবেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বীমাকৃত আড়াই লাখ ডলারের বেশি যাদের আমানত রয়েছে, তহবিল প্রত্যাহারের সুবিধা পাবেন তারাও। এর জন্য ব্যাংকের সম্ভাব্য ক্ষতি করদাতাদের কাঁধে চাপবে না। 

তবে ক্রেডিট সুইস তাদের এই অর্থনৈতিক সংকট ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে সক্ষম বলে মনে করছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর স্যার জন গিভ। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে একটি বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইস ব্যাংকের এসব সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই থাকবে, ছড়িয়ে পড়বে না।’ 

সুইস ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, ‘সুইস ব্যাংকের পক্ষ থেকে কিন্তু এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে তারা এই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে দেবে না। আমি জানি না ক্রেডিট সুইসের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। তবে এখন পর্যন্ত তারা দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করবে, ক্রেডিট সুইস ভবিষ্যতের খারাপ সময়গুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

সূত্র : বিবিসি 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা