প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৩ ১৮:১৬ পিএম
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩ ১৮:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণসহায়তা পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে কর বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত করারোপ জনজীবনকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এরই প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, হাসপাতালের কর্মী এবং রেলওয়ের হাজার হাজার শ্রমিক ধর্মঘটে নেমেছেন। ধর্মঘটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির ৪০টি ট্রেড ইউনিয়ন।
বুধবার (১৫ মার্চ) শ্রীলঙ্কার স্কুল ও হাসপাতালগুলোতে যথাক্রমে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো ও বহির্বিভাগের রোগী দেখা বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তায় যান চলাচলও কমে গেছে। দেশটির বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছে, যার ফলে ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে। তবে আন্দোলনের বাইরে ছিলেন কলম্বোর প্রধান সমুদ্রবন্দরের ডকশ্রমিকরা। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি রাজিথা সেনেভিরত্নে বলেন, ’সবকিছু বিবেচনায় আমাদের ওয়ার্ক টু রুল, দুই ঘণ্টার জন্য বিরতি পালন করেছি। কিন্তু সরকার যদি নতুন করের হার প্রত্যাহার না করে, তাহলে আমরা পুরো ধর্মঘটে যোগ দেব।’
এদিকে সরকার সবকিছু সচল করার জন্য রেলওয়ে স্টেশন এবং বন্দরে সশস্ত্র সৈনা মোতায়েন করেছে। বন্দরের ভেতরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ডকশ্রমিকদের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় দেখা গেছে। তবে সংঘর্ষের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অফিসকর্মীদের রাজধানীতে আনার জন্য ২০টি ট্রেন পরিচালিত হয়েছে। রাষ্ট্রচালিত বাসগুলোও চলাচল করেছে। তবে স্কুল, অফিস এবং কারখানায় উপস্থিতি কম ছিল।
ট্রেন পরিষেবার বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন জানায়, ট্রেনে যাত্রীর উপস্থিতি অন্য দিনের সঙ্গে তুলনা করলে পাঁচ শতাংশেরও কম ছিল। ট্রেড ইউনিয়নের মুখপাত্র হরিথা আলুথগে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এটি নিষ্পত্তিহীনভাবে শেষ হয়েছে। ফলে তাদের বুধবার কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করতে হয়েছে।’
এদিকে আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র বন্দুলা গুণবর্ধন বলেন, ’জরুরি পরিষেবার আদেশ লঙ্ঘন করে যে আন্দোলন করবে তাকেই আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
সূত্র : আল জাজিরা