× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিন মাস ফল আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব ঘাটতি

মেহেদী হাসান শিয়াম

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৩:৫৯ পিএম

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য খালাসের জায়গায় ট্রাক ঢুকছে। প্রবা ফটো

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য খালাসের জায়গায় ট্রাক ঢুকছে। প্রবা ফটো

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে তিন মাস ধরে ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা না থাকা এবং শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তাদের ব্যাপক কড়াকড়িতে বন্ধ হয়ে আছে ফল আমদানি। একদিকে ফল আমদানি বন্ধে যেমন বন্দরে থাকা শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছে না অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফল আমদানিতে শুল্ক নির্ধারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু জটিলতা ও দূরত্বের কারণে আমদানিকারকেরা এ স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানিতে উৎসাহিত হচ্ছেন না। 

সোনামসজিদ শুল্ক স্টেশন জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৯৮ কোটি ৯৯ লাখ ২ হাজার টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৩৩ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২৬৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। 

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা মোখলেস সর্দার বলেন, এ বন্দর দিয়ে গত ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে ফল আমদানি হয়নি। ফল আসলে এই বন্দরের শ্রমিকরা পণ্য খালাসের সুযোগ পায়। কিন্তু বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছে না। তারা চরম অর্থকষ্টে দিন পার করছে।

সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইসমাইল বলেন, কয়েকমাস আগেও ফলসহ সব ধরনের পণ্য আমদানি হতো। কিন্তু আমদানিকারকরা ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় তারা এই স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি করছেন না। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তারা ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করছে। তাই ফল আমদানিকারকরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি করছে। সেখানে তারা ব্যবসায়িক সুবিধাও পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই বন্দরে আমদানিকারকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে আবারও ফল আমদানি শুরু হবে। সামনে রমজান মাসে স্থানীয় বাজারগুলোতেও ফলের দাম স্থিতিশীল থাকবে।

সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম বলেন, সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আসা অন্যান্য পণ্য আমদানি হলেও গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ফল আমদানি হচ্ছে না। এর আগে যখন ব্যবসায়ীরা ফল আমদানি করত দিনে ৩০-৪০ ট্রাক ফল বন্দরে আসত।

সোনামসজিদ স্থল শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের কাজ সম্পূর্ণ করে থাকি। ফল পচে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে ফলের গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ফল আমদানিতে কোনো বাধা নেই। আমদানিকারকরা এনবিআরের নীতিমালা অনুসরণ করে ফল আমদানি করতে পারবেন বলেও জানান সোনামসজিদ স্থল শুল্ক স্টেশনের এই কর্মকর্তা।

এক সময় সোনামসজিদ বন্দর ছিল ফল ও পাথর আমদানির জন্য জনপ্রিয়। ১৯৯২ সাল থেকে প্রায় দুই যুগ এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক ফল আমদানি হতো। প্রতিনিয়ত কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নানা হয়রানি ও পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে ফলজাতীয় পচনশীল পণ্য আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর দিয়ে ফল আমদানি করবেন। রাজস্ব আদায়ে শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নয়, আগের মতোই অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হবে সোনামসজিদ কাস্টমসে। 

ফল আমদানি নিয়ে জটিলতা না কাটায় সোনামসজিদ আমদানিকারকরা বন্দর ছেড়ে গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ও অন্যান্য বন্দরের মতো সুযোগ সুবিধা দিতে সোনামসজিদ কাস্টমস কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে অনড় থাকায় আপাতত এই বন্দর দিয়ে ফল আমদানির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিধায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর হওয়ার পরেও বন্দরের জট কাটছে না। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা