ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৬:২০ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৬:৫৮ পিএম
প্রবা ফটো
চলতি বছর ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। উৎপাদন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মাঠজুড়ে তরমুজের সমারোহ। দেশের হবিগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলায় তরমুজের চাষ হয়।
জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম পক্ষ (১৫ দিন) তরমুজের চারা রোপণের জন্য সর্বোত্তম সময়। তবে বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণের ফলে মে ও সেপ্টেম্বর মাসেও বীজ বপন করা যায়।
জানা যায়, দেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। দেশজুড়ে নদীবাহিত এলাকায় বা চরাঞ্চলের জমিতে তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়। পানি জমে না এমন বেলে দোআঁশ বা বালুমিশ্রিত মাটিতে এর ফলন ভালো হয়।
গ্রীষ্মের মৌসুমি ফল তরমুজ জমি থেকে উত্তোলন করে বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা। বাজারে তরমুজের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। তরমুজ পাকার বিষয়টি জাত ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর ৮০-১১০ দিন বা তিন মাসের মতন সময় লাগে। কিন্তু তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্ণয় করা একটু কঠিন। কারণ অধিকাংশ ফল পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ বা তরমুজের গায়ে বিশেষ কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।
কৃষি বিভাগের বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ভোলায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত তরমুজ দেশের অন্যান্য জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। এদিকে গরমের শুরু আর তরমুজ বিক্রির জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তরমুজ চাষিরা গাছের পরিচর্যায় সার-ওষুধ প্রয়োগ করেছেন ও আগাছা দমনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে তরমুজে পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ও রোগমুক্ত থাকায় বিগত বছরগুলোর চেয়ে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তাই সন্তুষ্ট চাষিরা। সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।
লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের কৃষক তরিকুল ও ফরহাদ বলেন, ২০২২ সালের তুলনায় এ বছর তরমুজের ফলন ভালো। পাশের জমি থেকে রাসেল, স্বপন ও লোকমান বলেন, এ বছর ফলনে কোনো বিপর্যয় নেই। আমাদের ভোলায় তরমুজের ফলন খুব ভালো হইছে। বাজারে দামও ভালো পাব বলে আশা করছি।
পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা টুটুল চন্দ্র সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে এ এলাকায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। সবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় তরমুজ আবাদে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাসান ওয়াসিরুল কবীর বলেন, ভোলায় উৎপাদিত তরমুজ সুমিষ্ট হওয়ায় দেশজুড়ে চাহিদা অনেক বেশি। তাই ভোলা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় তরমুজের রপ্তানি হয়। আশা করা হচ্ছে আগামীতে উৎপাদন আরও বাড়বে। চলতি বছর ভোলায় ১৮ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত বছর যা ছিল ১২ হাজার ২৪৯ হেক্টর।
উল্লেখ্য, তরমুজ সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে বাজারে ওঠে। এটাই তরমুজের প্রধান মৌসুম। কিন্তু সম্প্রতি দেশের বাজারে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। বারোমাসি তরমুজের জাত এসেছে, তাই সারা বছরজুড়ে তরমুজ পাওয়া যাবে। দিন দিন বারোমাসি তরমুজের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বারোমাসি তরমুজ চাষ করে এক বিঘায় ফলন হয় প্রায় ৬ থেকে ৮ টন। এ জাতের ফলন থেকে বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব।