× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রপ্তানির আড়ালে চার প্রতিষ্ঠানের ৩৮২ কোটি টাকা পাচার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৪:৪৫ পিএম

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৫:১৮ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রপ্তানির আড়ালে জাল নথি তৈরি করে ১ হাজার ৭৮০টি চালানের বিপরীতে ৩৮২ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) কাকরাইলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সংস্থাটি মহাপরিচালক ফখরুল আলম এ তথ্য জানান। প্রতিষ্ঠানগুলো হল-এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন, সাবিহা সাইকি ফ্যাশন, ইমু ট্রেডিং করপোরেশন ও ইলহাম। 

ফখরুল আলম বলেন, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমাক্স শিপার্স লিমিটেডের সহযোগিতা ও যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। অন্য প্রতিষ্ঠানের ইএক্সপি ব্যবহার করায় এ জাতীয় ইএক্সপির কোনপ্রকার কার্যকারিতা না থাকায় বৈধ পন্থায় বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রত্যাবাসিত হওয়ার সুযোগ নেই অর্থাৎ এক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং সম্পন্ন হয়েছে। ওই চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্য আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এরূপ কার্যক্রমের অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জানা যায়, রপ্তানি দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছেন কিন্তু পণ্যের রপ্তানি মূল্য (বৈদেশিক মুদ্রা) দেশে প্রত্যাবাসিত হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্রগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর একটি দল গত ৩১ জানুয়ারি উত্তর পতেঙ্গা ডিপোয় অভিযান পরিচালনা করে, জালিয়াতির প্রমাণ পায়। এরই ধারাবাহিকতায় সে পরিপ্রেক্ষিতে ৭টি ৪০ ফিট কন্টেইনারে রক্ষিত ৯টি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ঘোষণা বহির্ভূত একাধিক পণ্য পাওয়া যায়। ঘোষণা মোতাবেক টি শার্ট এবং লেডিস ড্রেস রপ্তানির কথা থাকলেও কায়িক পরীক্ষায় বেবি ড্রেস, জিন্স প্যান্ট, লেগিন্স, শার্ট ও শালসহ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়। অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করতে চট্রগ্রাম কাস্টমস গোয়ান্দাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। যা তদন্তে চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালককে আহবায়ক করে ৮ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, সাবিহা সাইকি ফ্যাশনপ্রতিষ্ঠান বিগত সময়ে ৮৬ টি পণ্যচালান রপ্তানি করেছেন। রপ্তানিকৃত পণ্য চালানগুলোতে সাবিহা সাইকি ফ্যাশন ১৯৭ মেট্রিক টন মেনস ট্রাউজার, টি শার্ট, বেবি সেট, ব্যাগ, পোলো শার্ট, জ্যাকেট, প্যান্ট ও হুডি রপ্তানি করেছেন। যার বিনিময় প্রায় ২১ কোটি টাকা। চালানগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, সৌদি আরব ও নাইজেরিয়াতে রপ্তানি করা হয়েছে। 

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, অ্যাস্যাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইএক্সপি যাচাই এবং অগ্রণী ও ব্র্যাক ব্যাংক হতে থেকে তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় বর্ণিত ৮৬ টি বিল অব এক্সপোর্টে থাকা ইএক্সপিগুলো ভিন্ন ভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যু করা। যেহেতু একটি ইএক্সপি একাধিক বিল অব এক্সপোর্টে ব্যবহারের সুযোগ নেই। সেহেতু ৮৬টি বিল অব এক্সপোর্টে ভিন্ন ভিন্ন রপ্তানিকারকের ইএক্সপি ব্যবহার করা হলেও বিল অব এক্সপোর্টের ফিল্ড ২৪ এ কোড ২০ ব্যবহার করার কারণে ইএক্সপি এবং সংশ্লিষ্ট বিল অব এক্সপোর্টের রপ্তানিকারকের বিন অটো ম্যাচ হয়নি, এ ক্ষেত্রে ইএক্সপির কার্যকারিতা নেই। ফলে বৈধ পন্থায় এ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার সুযোগ নেই। 

একইভাবে এই চারটি প্রতিষ্ঠানসমূহ অন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ইএক্সপি ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে রপ্তানি সম্পন্ন করেছেন, সে কারণে এই পণ্যচালানগুলোর বিপরীতে কোন বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ পন্থায় দেশে প্রত্যাবাসিত হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় আলোচ্য ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, চারটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৭৮০টি পণ্যচালানে এমন জালিয়াতি করেছেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায়। রপ্তানি সম্পন্ন ১ হাজার ৭৮০ টি চালানের বিপরীতে পণ্যের পরিমাণ ১৮ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন যার ঘোষিত মূল্য প্রায় ৩৮২ কোটি টাকা।

যার মধ্যে এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন জালিয়াতির মাধ্যমে ২৮২ কোটি টাকা, ইমু ট্রেডিং করপোরেশন ৬২ কোটি টাকা ও ইলহাম ১৭ কোটি টাকা রপ্তানির আড়ালে পাচার করেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা