প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৮ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৮:৩১ পিএম
প্রবা ফটো
তামাকশিল্পে ন্যূনতম কর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শতাংশ। অথচ মোবাইলের মতো জরুরি খাতে এই হার ২ শতাংশ নির্ধারিত আছে। যাকে আয়কর আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশ (এমটব)।
সংগঠনটি জানায়, শিল্প টিকিয়ে রাখতে ও সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ন্যূনতম কর কমানোর বিকল্প নেই। এই কর হার কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (১২ মার্চ ) আগারগাঁওয়ে এনবিআর আয়োজিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব জানায় সংগঠনটি। এমটবের পক্ষ থেকে করপোরেট করের উচ্চহার কমানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, দেশে সাধারণ করপোরেট কর হার অতালিকাভূক্ত কোম্পানির জন্য ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২০ থেকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ জরুরি সেবা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ মোবাইল খাতের জন্য উচ্চহারে করপোরেট কর দিতে হয়।
স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের ক্ষেত্রে করের হার ৪০ শতাংশ ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ৪৫ শতাংশ। করারোপের ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের পৃথক শ্রেণিভুক্ত না করে বরং অন্যান্য কোম্পানির সারিতে পুনর্বিন্যস্ত করা এবং সেই হারে কর হ্রাস করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া ন্যূনতম কর সমন্বয় করা এবং অসমন্বয়কৃত অঙ্ক জের হিসাবে টানা, ক্যাপিটাল অ্যালাউন্স বা অবচয় ভাতা সমন্বয়, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি বাস্তবায়ন, ই-সিমসহ সকল প্রকার সিম সরবরাহের ওপর ভ্যাট অপসারণ, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের ভ্যাট অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। টেলিকম মেশিনারি, ইকুইপমেন্ট ও সফটওয়ারের জন্য পৃথক এইচএস কোডের প্রস্তাব দিয়েছে এমটব।
মূলধনী বিনিয়োগকে উৎসাহিতকরণ, সম্পদ ও মূলধন পাচাররোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ভবিষ্যতে অধিক রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে অপ্রদর্শিত আয়কে সহজ শর্তে প্রদর্শনের সুযোগ প্রদান করে ধারা ১৯ এএএএএ পুনর্বহাল করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন।
এ ছাড়া করোনা মহামারি-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ও আয়করের হার করদাতার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেছে তারা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্যাক্স ল'ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের প্রভাবে ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির দিক বিবেচনা করে সকল ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২০ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৪০ শতাংশ, মার্চেন্ট ব্যাংক ৩৭ দশশিক ৫০ শতাংশ, সিগারেট কোম্পানি ৪৫ শতাংশ, মোবাইল অপারেটরে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর বিদ্যমান আছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন শিপিং এজেন্সি কমিশনের ওপর প্রদেয় উৎসে করের হার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
বাংলাদেশ বিড়ি মালিক সমিতি তাদের প্রস্তাবে বিড়িতে শুল্ক ১৮ টাকা হতে নূন্যতম ২ টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া বিড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা ও সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়া বিড়ি ফ্যাক্টরি তৈরির লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এনবিআরে চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ’ট্যাক্স, ভ্যাট ও কাস্টমস সব খাতে ই-পেমেন্ট করার নির্দেশনা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে দেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের ভালোর জন্য সবকিছু বলে। সেসব আমরা দ্রুত করতে পারি না তাই আইএমএফের একটা তাগিদ থাকে।’
এনবিআরের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ’এ বছরের বাজেট পলিসি নির্ধারণে অনেক বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও অনেক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বছর এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য কর আদায়ের একটা চাপ থাকবে এবং একই সঙ্গে কর আদায় সহজীকরণের বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য এই প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ করতে হবে, এখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমরা পিছিয়ে আছি।’
তিনি বলেন, ’খসড়া ট্যাক্স আইনেও কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণের অনেক বিষয় আনা হয়েছে। ট্যাক্স নেট বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে রিটার্ন ফরম সহজ করা এবং অনলাইনে জমা দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছি।