প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৭:৪৫ পিএম
সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সঞ্চয় কমছে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় খোলা শিক্ষার্থীদের হিসাবে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে স্কুলশিক্ষার্থীদের ৪৫ হাজারেরও বেশি হিসাব বেড়েছে। তবে সঞ্চয় কমেছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। এর আগের তিন মাসে তাদের সঞ্চয় কমেছিল প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
ব্যাংকাররা বলছেন, দেশব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অভিভাবকদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। আর শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় নির্ভর করে অভিভাবকদের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর। খুদে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে ২০১০ সালে চালু হয় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম। তবে শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সাল থেকে। আর ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর স্কুল ব্যাংকিংয়ের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫৭টি ব্যাংকে স্কুল ব্যাংকিং চালু রয়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকে স্কুলশিক্ষার্থীদের নামে খোলা হিসাবের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬২ হাজার ৪২৫টি। এসব হিসাবে আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৮৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তিন মাস আগে স্কুলশিক্ষার্থীদের হিসাব খোলার পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৪১৪টি আর আমানতের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৩২২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। গত বছরের জুন শেষে হিসাবের পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ১৮ হাজার ১৯৩টি আর আমানতের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের শেষ ছয় মাসে স্কুলশিক্ষার্থীদের আমানত কমেছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বেশি ২২ লাখ ৪১ হাজার ৪০টি হিসাব খুলেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এসব হিসাবে জমা হওয়া আমানতের স্থিতি এক হাজার ৭৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর পরেই আছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, যারা এখন পর্যন্ত আট লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪টি হিসাব খুলেছে। এসব হিসাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ ৩৫২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মোট ব্যাংক হিসাবের ৫০ দশমিক ৩৫ শতাংশই করেছে গ্রামের শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি হিসাব খোলা হয়েছে ঢাকা বিভাগে (২৬ শতাংশ)। এর পরেই আছে চট্টগ্রাম (২০ শতাংশ), রাজশাহী (১৩ শতাংশ) ও খুলনা (১১ শতাংশ)। তবে স্কুল ব্যাংকিংয়ে গ্রামের চেয়ে শহরে শিক্ষার্থীদের আমানতের পরিমাণ বেশি। মোট আমানতের ৭২ দশমিক ১৪ শতাংশই শহরের শিক্ষার্থীদের। আমানতেও সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ, ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮ শতাংশ ও খুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ।
মূলত করোনা পরিস্থিতি উন্নতির পর থেকে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমছে। এর মধ্যে গত বছরই সবচয়ে কম বেড়েছে আমানত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, করোনা মহামারির বছর ২০২০ সালে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছিল এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সাড়ে ১৩ শতাংশ। তার পরের বছর ২০২১ সালে আমানত বেড়েছিল এক লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। সেখানে গত বছর বেড়েছে মাত্র ৭৯ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গত বছর শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার বিশেষ হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৩৮১টি। এর বিপরীতে হিসাবগুলোতে আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। তিন মাস আগে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার ২১৪টি আর আমানতের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা।