সোহেল চৌধুরী
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৪:১৪ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩ ১৪:১৫ পিএম
রিচার্ড কোয়েস্ট ব্রিটিশ সাংবাদিক। ছবি : সংগৃহীত
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আয়োজনে ঢাকায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট-২০২৩। এ সম্মেলনের সম্প্রচারের অংশীজন হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন। এ সম্মেলনের সংবাদ প্রচারে দেশে অবস্থান করছেন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য সম্পাদক রিচার্ড কোয়েস্ট। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সঠিকভাবে করতে পারলেই আরও এগিয়ে যাবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল চৌধুরী
বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ কেমন দেখছেন?
রিচার্ড কোয়েস্ট: বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো। ভালো করার প্রত্যয় নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক। কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা মোকাবিলা করতে পারলেই আরও সমৃদ্ধ হবে দেশের ব্যবসা এবং অর্থনীতি। তা ছাড়া পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যতায় বেশ এগিয়েছে বাংলাদেশ। পোশাকশিল্পের বাইরেও অন্যান্য খাত রয়েছে, যেগুলোর রপ্তানি বাড়াতে পারলে শক্ত অবস্থানে যাবে বাংলাদেশ। এ দেশের উদ্যোক্তারাও বেশ গতিশীল। তাদের মধ্যে উদ্যোগ নেওয়ার বেশ সাহস আছে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে উদ্যোক্তারা ভীষণ মনোযোগী।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী কী চ্যালেঞ্জ আছে বলে আপনি মনে করেন?
রিচার্ড কোয়েস্ট: চ্যালেঞ্জ বলতে অবকাঠামো উন্নয়ন দরকার। সেই সঙ্গে যানজট কমাতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য সূচকেও এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। বর্তমানে এ বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যত দ্রুত করতে পারবে ততই লাভবান হবে এই দেশটি। কেননা আগামীতে অনেক কিছুই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর জোর দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
২০৪১ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হতে চায় বাংলাদেশ। সে অনুযায়ী বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
রিচার্ড কোয়েস্ট: অবশ্যই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের কর্মঠ মানবসম্পদ রয়েছে। তবে কর্মঠ মানবসম্পদ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলে হবে না। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে তাদের ব্যবহার করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীদের আরও আগ্রহী করে তুলতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক উন্নতি মূলত সবকিছুর ওপরেই নির্ভর করে। একটি বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না। তা ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বল্প সময়ে কাজ করা গেলে বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়বে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
রিচার্ড কোয়েস্ট: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় সব দেশই অর্থনৈতিক চাপে আছে। বিশেষ করে অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধই অর্থনীতির জন্য খারাপ। কেননা এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বড় বাধার সম্মুখীন হয়। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যায়।