প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১৬:২১ পিএম
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১৬:৩১ পিএম
প্রবা ফটো
গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে মঙ্গলবার বিকালে যে ভবনটিতে বিস্ফোরণ হয়, সেটির পাশের ভবনে ছিল ব্র্যাক ব্যাংকের গুলিস্তান শাখা। ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখানকার গ্রাহকদের নবাবপুর শাখা থেকে সেবা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকটি। বিস্ফোরণের ঘটনায় এ শাখার ৪ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন।
ভবনটিতে ব্র্যাক ব্যাংকের গুলিস্তান শাখার পাশাপাশি একটি এসএমই ইউনিট ছিল। বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বিকট শব্দের সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণে জানালার কাঁচ ভেঙে আমাদের কর্মীরা আহত হয়েছেন। তবে গুরুতরভাবে কেউ আহত হননি। হয়তো সেখানে আর শাখাটা রাখা যাবে না। স্থানান্তর করতে হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণে আমাদের ওই শাখার জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে। শাখায় মোট ৫০ জন কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন সামান্য আহত হয়েছেন।' আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ শাখায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকিং আওয়ার শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার বিস্ফোরণের সময় সেখানে কোনো গ্রাহক ছিলেন না। এ অবস্থায় গুলিস্তান শাখার সেবা এখন দেওয়া সম্ভব হবে না। এখানকার গ্রাহকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের নবাবপুর শাখায় সেবা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর গুলিস্তানের পাশে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এমন অনেকের খোঁজ নিতে পরদিন সকাল সকাল ছুটে এসেছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে প্রথম দিনের উদ্ধারকাজে সাময়িক বিরতি টানে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ও সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার বিকালে সিদ্দিকবাজারে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার দাশ জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন, মেহেদী হাসান স্বপন, ইমতিয়াজ আহমেদ ভূঁইয়া সেলিম, মো রবিন হোসেন এবং কালাচাঁন মিয়া। বিস্ফোরণে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন। আর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১ জন। অন্য আহতরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ছাড়া ১৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।