× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাটবীজ উৎপাদনে ৩৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৩ ১৩:২৬ পিএম

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৩ ১৪:২৫ পিএম

পাটবীজ উৎপাদনে ৩৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প

পোশাকশিল্পের পর দেশের রপ্তানি খাতে বড় অবদান রাখছে পাট। বর্তমানে সরকারের পাটকলগুলো ভালো অবস্থানে না থাকলেও রপ্তানিতে ভালো করছে বেসরকারি শিল্পগুলো। 

এদিকে বাজারে তেমন দাম না পাওয়ায় দেশে ক্রমেই পাটের উৎপাদন কমছে। তাই পাটবীজ উৎপাদন ও পাট চাষে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া পাট রপ্তানিতেও নগদ সহায়তাসহ নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। 

দেশে পাট চাষের একটি বড় সমস্যা হলো পাটবিজ উৎপাদন। পাটের ভালো বীজ না থাকার কারণে পাট উৎপাদন ভালো হচ্ছে না। এমনকি বীজেরও সংকট রয়েছে। তাই সরকার উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট-পাটবীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ৩৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে পাটের উন্নত বীজ উৎপাদন, সাড়ে ৫ লাখ কৃষককে পাট চাষের প্রশিক্ষণ এবং ১ লাখ কৃষককে গুণগতমানসম্পন্ন পাট আঁশ উৎপাদন ও পাট পচনের জন্য ২ লাখ ৬১ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গুণগত মানসম্পন্ন পাটের উৎপাদন এলাকা ক্রমান্বয়ে কমে ১০-১২ লাখ একরে দাঁড়িয়েছে। ফলে পাট উৎপাদন ৬৮ লাখ বেল থেকে কমে ৪০-৫০ লাখ বেল হয়েছে। পাট খাত দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ১০ শতাংশ, দেশের জিডিপিতে প্রায় ৪ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ের ৫ শতাংশ অর্জনে অবদান রাখছে। 

দেশে পাটবীজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ৫০০-৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টনই বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয়। ফলে প্রতিবছর দেশে কৃষকদের ব্যবহারের জন্য মানসম্মত পাটবীজের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়।

পাট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে দেশে মোট কাঁচা পাট উৎপাদন হয়েছিল ৯২ লাখ বেল। সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৭০ লাখ বেলে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে কাঁচা পাট রপ্তানি ছিল ১৩ দশমিক ৭৯ লাখ, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৮ লাখ বেলে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে কাঁচা পাট থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১ ২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। যদিও ২০২১-২২ অর্থবছরে মাত্র ৬৫৯ কোটি টাকার কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। 

পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে ছিল ১১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৬ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। সেখানে ২০২১- ২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয় মাত্র ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। যদিও গত অর্থবছরে ৭ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি হয়।

দেশের পাটচাষিদের দ্বারা আবাদের মাধ্যমে উচ্চ-৬ ফলনশীল পাটবীজের অধিক উৎপাদন লাভের সুফল সারা দেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পাট অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘উচ্চ ফলনশীল (উফশী) পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং উন্নত পাট পচন’ প্রকল্পটি জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়।

ওই প্রকল্পের আওতায় দেশের পাট উৎপাদনকারী ৪৪টি জেলার ২০০টি উপজেলায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত উন্নত তোষা জাতের পাটবীজ বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে কিনে তা নির্বাচিত পাটচাষিদের মধ্যে বিতরণ করে। আগের প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় পাট অধিদপ্তর কর্তৃক ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্প নেওয়া হয়। 

এতে কৃষকদের দ্বারা উফশী পাট ও পাটবীজ উৎপাদন, উৎপাদিত বীজ ফ্রি, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং ও প্রকল্পভুক্ত অন্যান্য পাটচাষির মধ্যে বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাট উৎপাদনের বিষয়ে পাট অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক দীপক কুমার সরকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের দেশের পাটবীজের বড় সংকট রয়েছে। তাই আমাদের পাটবীজ উৎপাদন করতে হয়। এ ছাড়া পাট উৎপাদনে নানা সমস্যার কারণে কৃষকরা পাট চাষে বিমুখ হচ্ছেন। তাই উন্নত জাতের পাটবীজ উৎপাদন এবং কৃষকদের পাট চাষ, পাটের আঁশ উৎপাদন ও পাট পচনের প্রশিক্ষণ দিতে একটি প্রকল্প চলছে।

প্রকল্পটির সম্পর্কে গত রবিবার পাট দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, উফশী জাতের পাটবীজ ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প জমিতে অধিক পাট উৎপাদন, পাটবীজের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে পাটবীজ উৎপাদনে চাষিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, পাট চাষের আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে পাটচাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্তে পাট অধিদপ্তরের অধীন ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ প্রকল্পটি দেশের ৪৬টি জেলার ২৩০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে পাঁচ বছরের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। আশা করি, বাংলাদেশ উন্নত পাটবীজ উৎপাদনে স্বনির্ভর হবে। প্রয়োজনীয় পাটবীজ সংগ্রহে আমদানিনির্ভরতা আর থাকবে না।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা