× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বীমায় সুশাসনের সঙ্গে সঙ্গে আস্থাও ফিরছে

আনিছুর রহমান

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৩ ১৩:১১ পিএম

 ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন। যিনি দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনে (বিআইএ) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১ মার্চ বীমা দিবসকে ঘিরে এ খাতের উন্নয়ন ও প্রসারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিছুর রহমান।

স্বাধীনতার এত বছর পরও বীমায় আস্থার সংকট কেন?

শেখ কবীর হোসেন : ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের মাধ্যমে বীমা পরিবারের সদস্য হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে এ খাতের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল আলাদা টান। তাই দেশ স্বাধীন হলে বীমা খাতের সংস্কারে পদক্ষেপ নেন। সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন ও বীমা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এ খাতটি সংস্কারের অভাব, অবহেলা আর অবজ্ঞায় উঠে দাঁড়াতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠার পর একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এ খাত। সুশাসনের সঙ্গে সঙ্গে আস্থাও ফিরছে।

বীমা দাবি পরিশোধ নিয়ে অনেক অভিযোগ, এখানে সমস্যাটা কোথায়?

শেখ কবীর হোসেন : বীমা দাবি নিয়ে সমস্যা মূলত ব্যবস্থাপনায়। এখানে অটোমেশন চালু করলে স্বচ্ছতা আসবে। তখন কেউ চাইলেও অনিয়ম করতে পারবে না। এটা নিয়ে কাজ করছে আইডিআরএ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং বাংলাদেশ বীমা একাডেমিতে অটোমেশন করা হচ্ছে। এটা হলে বীমা খাতকে এগিয়ে নেবে। একদিকে অভিযোগ যেমন আছে তেমনই কিন্তু অনেক কোম্পানি সাত দিনের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করছে। এটা কিন্তু ইতিবাচক। আর যেসব কোম্পানি বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে তাদের সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহক দাবি পূরণে নির্দেশনা দিয়েছে আইডিআরএ। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন।

বীমা কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের অভাব নাকী সদিচ্ছার অভাব?

শেখ কবীর হোসেন : সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব আছেই, সঙ্গে সদিচ্ছার অভাবও রয়েছে। এ জন্য অনেক বীমা কোম্পানি সময় মতো বীমা দাবি পূরণ করতে পারে না। সরকার এই সমস্যা সমাধানে বিদেশে বীমা শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে অ্যাকচুয়ারি বিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে বৃত্তি দিয়ে বিদেশ পাঠিয়েছে। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরলে বীমা খাতের দক্ষ জনবল পাওয়া যাবে। 

বীমা কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে দেখা যায় কেন?

শেখ কবীর হোসেন : কিছু কোম্পানিতে এই ধরনের সমস্যা থাকবেই। এটা ব্যাংকসহ সব খাতেই আছে। ভালো কিছু করতে হলে মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্য সৎ হতে হবে। যারা অসৎ তাদের জন্য তো আইনকানুন আছেই। 

বাধ্যবাধকতা থাকলেও বীমা খাতের অনেক কোম্পানি এখনও পুঁজিবাজারে আসেনি?

শেখ কবীর হোসেন : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে জবাবদিহির মুখে পড়তে চায় না অনেক কোম্পানি। এছাড়া অনেক কোম্পানি অনিয়মের কারণে একটা স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে পারছে না, যা তালিকাভুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে অনেক বীমার আর্থিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি) গ্রহণ করতে পারছে না।

মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো কেন দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলো বাজার দখল করতে পারছে না?

শেখ কবীর হোসেন : মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স একটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এ কাজে অনেক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের, আছে দক্ষ জনবল। তাই তাদের সঙ্গে দেশীয় কোম্পানির তুলনা হয় না। সম্প্রতি মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কিছু দক্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলো নিয়োগ দিচ্ছে। এটা দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। আর দেশীয় বীমা প্রতিষ্ঠানকে নীতিসহায়তা দিতে কাজ করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

বীমা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বীমা উন্নয়ন নিয়ে কি কোনো দাবি থাকবে?

শেখ কবীর হোসেন : আনন্দের দিনে কোনো দাবি করতে চাই না। কিন্তু আইন থাকার পরও সেগুলোর বাস্তবায়ন না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে বীমা খাত। আইন অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি কর্মী থাকলে বীমার আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এজন্য সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা