প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:০৪ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ২০:২৯ পিএম
ভারতে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে কয়েক দফায় দাবদাহ হতে পারে। ফলে দেশটির গম, রাইসরিষা ও ছোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে কয়েক দফায় দাবদাহ হতে পারে। ফলে দেশটির গম, রাইসরিষা ও ছোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে। মঙ্গলবার ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) এক বিবৃতিতে এ শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইএমডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্চ ও মে মাসের মধ্যে দাবদাহের যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ও পার্শ্ববর্তী উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে দাবদাহের শঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এসব অঞ্চলে দাবদাহের ঘটনা ঘটলে গমের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারণ এই অঞ্চলগুলিতে সবচেয়ে বেশি গম চাষ হয়।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর দাবদাহের কারণে দেশটির গম উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। টানা দ্বিতীয় বছর দাবদাহের মুখে পড়লে দেশটির গম রপ্তানিতে ফের কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে।
পাশাপাশি অভ্যন্তরেও নানান ধরনের চাপে পড়বে দেশটির সরকার। একদিকে দাবদাহে ফসল নষ্ট হলে বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাবে। আরেক দিকে চাহিদা বাড়ায় বিদ্যুতের বা জ্বালানির যোগানে টান পড়বে। ফলে জ্বালানির দামও বাড়তে পারে। সবকিছু মিলিয়ে খাদ্য-শস্যে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে।
বিদেশে শস্যদানা রপ্তানি করেন মুম্বাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে গম উৎপাদন চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় মার্চে তাপমাত্রা বাড়লে বা দাবদাহ হলে আমরা যে বড় ধরনের চাপে পড়ব, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মার্চ মাস ভরতের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতে বছরে মাত্র একবার গম চাষ হয়। গমসহ অন্য যেসব ফসল অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে অর্থাৎ শীতকালে রোপন করা হয় সেগুলো মার্চে কাটা হবে। আর তখনই যদি দাবদাহের ঘটনা ঘটে তাহলে ফসলের বিপুল ক্ষতি হবে।
আইএমডির তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে ভারতের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯০১ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই বছর থেকে তাপমাত্রার হিসাব রাখছে আইএমডি।
অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারিতে ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএমডি।
ভারতে তাপমাত্রা ও দাবদাহ বাড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায় দুই দশক ধরে তা নিয়মিত হারে বাড়ছে। তবে সম্প্রতি তা তীব্রতর হয়েছে। গত বছর এ বিষয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারকে সতর্ক করেন। এমন কি বর্ষা মৌসুমেও তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দাবদাহ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এ অবস্থায় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর কাছে মঙ্গলবার পাঠানো দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের কিছু কিছু স্থানে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে অস্বাভাবিক রকম বেড়েছে। এ জন্য সরকারকে তাপমাত্রা মোকাবিলা সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স