× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাল এনইসিতে উঠছে সংশোধিত এডিপি

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৪০ পিএম

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:০৬ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী করতে না পারায় সংশোধন হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। মূল এডিপির তুলনায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে যে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমছে তার পুরোটাই বৈদেশিক ঋণের অংশ। আরএডিপিতে সরকারের অংশ কমছে না। সরকারের এই গতানুগতিক সংশোধিত এডিপি নিয়ে হতাশ অর্থনীতিবিদরা। 

তারা বলছেন, ডলার সংকটের এই মুহূর্তে বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পগুলোতে গতি বাড়ানো দরকার ছিল এবং দেশীয় প্রকল্প যেগুলোতে ডলার খরচ হয় সেগুলোতে কাটছাঁট করা দরকার ছিল।

আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেবেন এনইসির চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় আরএডিপি চূড়ান্ত হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে যা কমে দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। মোট বরাদ্দ কমছে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই বৈদেশিক ঋণের অংশ। সংশোধিত এডিপি বা আরএডিপিতে বৈদেশিক অংশে বরাদ্দ থাকছে ৭৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যা মূল এডিপিতে ছিল ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক ঋণ সবচেয়ে বেশি ছিল। সেই মেগা প্রকল্পগুলোতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমছে। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল-রামপুরা-মালিবাগ-কমলাপুর এবং কুড়িল থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত এমআরটি-১ প্রকল্পে এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। যা সংশোধিত এডিপিতে কমে হচ্ছে ৪৮৩ কোটি টাকা। আর হেমায়েতপুর-গাবতলী-মিরপুর ১-কচুক্ষেত-গুলশান ২ হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি-৫ প্রকল্পে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। আরএডিপিতে তা কমে হচ্ছে ৪০৬ কোটি টাকা।

এদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলেও এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২০২ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে যা কমে হচ্ছে ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মূল এডিপিতে রাখা ছিল ১৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে এ প্রকল্পে বরাদ্দ কমে হচ্ছে ১১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে বিদেশি অংশ কমেছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা, অন্যদিকে বেড়েছে দেশীয় অংশ।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বরাদ্দ ৩ হাজার ৭০২ কোটি টাকা থেকে কমে হচ্ছে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুমুখী সড়ক টানেল’ প্রকল্পে বরাদ্দ ২ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলসংযোগ প্রকল্পের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা থেকে কমে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা হচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ১৯ কোটি টাকা। আরএডিপিতে তা কমে হচ্ছে ৪ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর জন্য মূল এডিপিতে ছিল ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। আরএডিপিতে তা কমে হচ্ছে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের বরাদ্দ হচ্ছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

তবে পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ প্রকল্পে ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা করা হচ্ছে। একইভাবে মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বরাদ্দ ৬ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে। আর এমআরটি-৬ প্রকল্পে বরাদ্দ ২ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।

যদিও সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা ফার্স্টট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্স বড় প্রকল্পগুলোর কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে। তারপরও গতি না বাড়ায় বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমছে।

বৈশ্বিক এই সংকটের সময়ে যখন আমাদের ডলার খুবই প্রয়োজন সেই সময়ে সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক অংশে এই বিশাল কাটছাঁটে অবাক হয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই সংকটের মুহূর্তে যখন আমাদের ডলার খুবই প্রয়োজন তখন সংশোধিত এডিপিতে এভাবে বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পে অর্থ কাটছাঁট করা হয়েছে। যা আমাকে অবাক করেছে। এই মুহূর্তে উচিত ছিল দেশীয় প্রকল্প কিন্তু ডলারের চাহিদা আছে সেই প্রকল্পে কাটছাঁট করা। আর বৈদেশিক ঋণের প্রকল্প যেগুলোতে দেশে ডলার আসবে সেগুলোর গতি বাড়ানো। কিন্তু আরএডিপিতে তেমন কিছু দেখলাম না। সেই গতানুগতিক ধারাই অব্যাহত রয়েছে।’

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রকল্পগুলোতে যে চাহিদা ছিল তার তুলনায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরএডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। আর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ২ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা