সোহেল চৌধুরী
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
তানভীর আহমেদ।
দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের সেরা সবুজ কারখানা গ্রিন টেক্সটাইল লিমিটেড। এর যৌথ মালিকানায় রয়েছে হংকংভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি এপিক গ্রুপ এবং বাংলাদেশের এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপ।
এনভয় লিগ্যাসির পক্ষে গ্রিন টেক্সটাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তানভীর আহমেদ। যিনি এনভয় লিগ্যাসি ও শেলটেক গ্রুপেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একই সঙ্গে বিজিএমইএ ও এমসিসিআইয়ের পরিচালকও তিনি।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ক্রেতা আকর্ষণে সবুজ কারখানা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সোহেল চৌধুরী।
বিশ্বের সেরা সবুজ কারখানার মর্যাদা পাওয়ায় কেমন অনুভব করছেন?
তানভীর আহমেদ : বিশ্বের সেরা সবুজ কারখানা এখন বাংলাদেশে, এটা অবশ্যই দেশের জন্য একটা গৌরবের বিষয়। একই সঙ্গে আমাদের জন্য একটা বড় পাওয়া। কেননা আমরা দেশকে বিশ্বের দরবারে ব্র্যান্ডিং করতে পেরেছি।
সবুজ কারখানা তৈরির প্রেরণাটা কীভাবে পেলেন?
তানভীর আহমেদ : আমরা প্রায় ৩৮ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করছি। আমাদের বিশ্বাস, নতুন প্রজন্ম আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াটাও অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসায় শুধু মুনাফা দেখলেই হবে না। মুনাফার বাইরে গিয়ে নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই সবুজ কারখানা তৈরির উদ্যোগ হাতে নেওয়া। আমরা চেয়েছি যে, মানুষ যেন এটাকে উদাহরণ হিসেবে নিতে পারে। আমাদেরকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারে। আমাদের সবুজ কারখানা নির্মাণ পুরোটাই বেসরকারি উদ্যোগে করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়নি। বরং সর্বদা সবার সহযোগিতা পেয়েছি।
সবুজ কারখানার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বা খরচ সাশ্রয় কতটুকু হয়?
তানভীর আহমেদ : সবুজ কারখানা তৈরি করা মূলত পরিবেশের জন্য। পরিবেশ ঠিক রেখে টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়া চালিয়ে নিতে সবুজ কারখানার বিকল্প নেই। এ ছাড়া আমাদের এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য সবুজ কারখানা তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর মাধ্যমে দূষণ কমানো, পানি, আলো এবং জ্বালানির বেশ সাশ্রয় করবে। এই বিষয়গুলো চিন্তা করেই কারখানা তৈরি করা হয়েছে।
সবুজ কারখানার উদ্যোক্তারা কেমন সাড়া পাচ্ছেন বা লাভবান হচ্ছেন?
তানভীর আহমেদ : সাড়া বা লাভ বলতে সুনাম তৈরি হয়, যা একটা বড় পাওয়া। এটা অন্যরকম একটা তৃপ্তি বা আনন্দদায়ক বিষয়। এরপর ক্রেতাদের আকর্ষণে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ক্রেতারাও সাহস পায় পণ্যের অর্ডার করতে। যখন ক্রেতারা পণ্যের অর্ডার দেয় তখন এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়। কারণ ক্রেতারাও একটা স্কোরিং করে হিসাব-নিকাশ করে ক্রয়াদেশ দেয়। তাই সবুজ কারখানা অবশ্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সামনের দিনে সবুজ কারখানা বৃদ্ধিতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
তানভীর আহমেদ : ইচ্ছা আছে সামনে এ রকম আরেকটা টেক্সটাইল করব। ভোলাতে বড় রকমের একটা কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল তৈরির চিন্তা-ভাবনা করেছি। এটাও যৌথ উদ্যোগে করা হবে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে আল্লাহ চাইলে ওই কম্পোজিট মিলটাও সবুজ কারখানা হিসেবেই তৈরির ইচ্ছা আছে।