চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:৩৩ এএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:৩৪ এএম
ফটো সংগৃহীত
ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এক মাস ধরে কমছে পেঁয়াজের দাম। ফলে গত এক বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।
খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন, ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ পণ্যটি আমদানি হওয়ায় বাজারে এর দাম কমছে। আর তাতে লোকসানে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা।
ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষি মামুন হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা (পেঁয়াজ চাষি) এখন অনেক লোকসানে আছি। পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না।’
কী পরিমাণ লোকসানে পড়ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে আমাদের ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর তাতে ভালো ফলন হলে ৬০ মণের মতো পেঁয়াজ পাওয়া যায়। তাই গড়ে প্রতিমণ উৎপাদনে আমাদের খরচ পড়ে ১ হাজার টাকা। কিন্তু এখন আমাদের প্রতিমণ বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ টাকায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ভারত থেকে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করায় দাম কমছে। দেশের কৃষকদের বাঁচাতে মামুন হোসাইন আগামী দুই-আড়াই মাস ব্যবসায়ীদের পণ্যটি আমদানি কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে অন্তত ১২ টাকা। এক মাস আগে খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩২-৩৩ টাকা। ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৫-৩৬ টাকায়। কিন্তু এখন প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। মেহেরপুরের বড় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়। ভারতের বেলডাঙার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৩-২৪ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও লোকসান গুনতে হচ্ছে। কেজিতে অন্তত এক-দুই টাকা করে প্রতিদিন লোকসান দিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের একে ট্রেডার্সের মালিক আনোয়ার হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম প্রতিদিন কমছে। যারা পণ্যটি আনছেন, তারা লোকসান দিচ্ছেন। গতকাল আমার আড়তে ১২০ বস্তার মতো নাসিক পেঁয়াজ নামিয়ে ছিলাম। যারা এগুলো আমদানি করেছেন তারা জানিয়েছেন, এ পেঁয়াজগুলো ২৬ টাকা ধরে এলসি করেছেন। কিন্তু আমরা ওই পেঁয়াজ আজ বিক্রি করেছি ২৩ টাকা ধরে। ভারতে প্রচুর উৎপাদন হয়েছে। ওই দেশ থেকে আসায় প্রতিদিন দাম কমছে।’
তিনি আরও বলেন, ভারতের পেঁয়াজের কারণে এখন দেশি পণ্যটি ১৫-১৬ টাকা হওয়ার পরও কিনছেন না ক্রেতারা। কারণ ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ দেখতে সুন্দর। তাই দেশি পেঁয়াজ থেকে এক-দুই টাকা বেশি হলেও মানুষ ভারতীয় পণ্যটি বেশি কিনছেন। মেহেরপুরের পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়। এরপরও কেউ কিনছেন না।
দেশের কৃষককে বাঁচাতে এখন আমদানি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, আমদানি বন্ধ রাখলে দেশের কৃষক যেমন লাভবান হবেন। তেমনি দেশের টাকাও দেশে থাকবে। পেঁয়াজের দাম হয়তো বাড়বে, কিন্তু টাকাটা দেশেই থেকে যাবে।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের উপপরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. এইচএম মনিরুজ্জামান।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত বছর প্রায় ৩৮ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এবার কী পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, সেই তথ্য এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়নি। এবারও গত বছরের মতো অথবা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। উৎপাদন বেশি হয়েছে বলে বাজারে সরবরাহ বেশি। তাই এখন পেঁয়াজের দাম কম।
এক কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কমপক্ষে ২৫ টাকা খরচ পড়ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যদি লোকসানে পড়েন, তাহলে আগামীতে পেঁয়াজ চাষ করতে চাইবেন না। এতে সামনে দেশে পণ্যটির সংকট হতে পারে। তাই কৃষকরা যাতে লোকসানে না পড়েন, তাই সরকারের উচিত কৃষকদের কাছ থেকে কিনে এখন সংরক্ষণ করা। এতে পেঁয়াজের সংকট যেমন কাটবে, তেমনি কৃষকও লাভবান হবেন।