প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৩ পিএম
প্রবা ফটো
পুঁজিবাজারের লেনদেন ও সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় কমেছে মূলধন। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের(ডিএসই) গড় লেনদেন ৩৫ শতাংশ কমে ২৭৩ কোটি টাকা হয়েছে। সেই সাথে নিম্নমুখি ছিল দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সবগুলো মূল্যসূচক, বাজার মূলধন, মার্কেট পিই রেশিও। তবে আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে(সিএসই)।
২১ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় গত সপ্তাহে লেনদেন হয় ৪ কার্যদিবস। এই চারদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ৪১ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২০৫ পয়েন্টে। সপ্তাহ জুড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯২ কোটি ৫১ লাখ টাকা শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ১১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১ হাজার ১৮ কোটি টাকা বা ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। সেই হিসেবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ২৭৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ২২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৫০ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১৫ টির , কমেছে ১৫৩ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮২টির।
গত সপ্তাহের শুরুর আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকায়। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৬২ হাজার ২২৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা। একইসঙ্গে কমেছে ডিএসইতে মার্কেট পিই রেশিও বা মূল্য আয় অনুপাত। সপ্তাহ ব্যবধানে পিই রেশিও দশমিক শূণ্য ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৩২ পয়েন্টে।
গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ থাকা ৫ কোম্পানি লেনদেন হয়েছে ৩০৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। টাকার অঙ্ক কমলেও গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষ উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন । বাজার মূল্য ৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা শেয়ার হাতবদল হয়। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার লেনদেন হয় ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা। লেনদেনের তালিকায় শীর্ষ ৫ এ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে শাইনপুকুর সিরামিক্সের ৬১ কোটি ৬১ লাখ টাকার, সি পার্ল বিচ রিসোর্টের ৪৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
সাপ্তাহিক দাম বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে আইসিবি এমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবলি মিউচুয়াল ফান্ড।এর দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ২০ শতাংশ বেড়ে সবশেষ লেনদেন হয় ৯ টাকায়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমারেল্ড ওয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ৩১ টাকা ৯০ পয়সায়। তালিকার অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৬ শতাংশ, সি-পার্ল বিচ রিসোর্টের ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং রূপালি লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২ দশমিক ৯ শতাংশ দর বেড়ে শীর্ষ ৫ এ অবস্থান করছে।
এদিকে সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড। ফান্ডটির বাজারমূল্য কমেছে ১৪ টাকা বা ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৪৮ টাকা ৩০ পয়সায়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনস্যুরেন্সের শেয়ার দর ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ১০৪ টাকা ৬০ পয়সায়। তালিকার অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেট্রো স্পিনিংয়ের ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, এপেক্স ফুটওয়্যারের ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সোনালি পেপারের ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ দর কমেছে।
অপরদিকে ডিএসইতে লেনদেন কমলেও বেড়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা ৭৩ দশমকি ৪৬ শতাংশ বেশি। ওই সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২০৭ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১২ টির, কমেছে ৯৪ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১০১ টির দর।