× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রপ্তানির পোশাক নকল, চাল-মুড়িতে কীটনাশক

আসিফ শওকত কল্লোল ও ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৩ পিএম

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৩৫ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে বেকায়দায় বহু দেশের অর্থনীতি। করোনা মহামারির অভিঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার দিকে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এ সংকটের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও- নানা ঝুঁকির মুখে আছে দেশের সার্বিক অর্থনীতি।

অব্যাহতভাবে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ডলারের বিপরীতে টাকার মান এখনও নিম্নমুখী এবং বৈদেশিক মুদ্রায় আয়-ব্যয়ের ঘাটতি বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমলেও রপ্তানি সে তুলনায় বাড়ছে না। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেরবার অবস্থা যখন- ঠিক সেই সময়ে কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানির বাজার নিয়ে মাথাচাড়া দিয়েছে নতুন শঙ্কা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাক। পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। নানা কারণেই কয়েক বছর ধরে এমনিতেই পশ্চিমা নানা চাপ সামাল দিতে হচ্ছে দেশের পোশাক শিল্পকে। এবার সেই চাপ বাড়ল আরও- যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নকল করে পণ্য রপ্তানির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যালোচনার মধ্যে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। অভিযোগ প্রমাণ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নানা বিপত্তির মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে। 

শুধু তৈরি পোশাক নয়, পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের কৃষিপণ্যেরও সবচেয়ে বড় ক্রেতা। সেই বাজারও এখন ঝুঁকির মুখে। শর্ত পূরণ করতে না পারায় এর আগে বাংলাদেশে উৎপাদিত চিংড়ি, পান ও আলুর মতো কৃষিজ পণ্য পশ্চিমা দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠানো গেলেও এবার সুইডেনের বাজারে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের চিনিগুঁড়া চাল ও মুড়ি। এর ফলে যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, তাতে ইউরোপের ৫২টি দেশে বাংলাদেশি পণ্যের ২ হাজার ৩২৩ কোটি ডলারের রপ্তানির বাজার বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে শঙ্কায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাক খাতে শঙ্কার ছায়া 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিয়ে নকলের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলির প্রভাবশালী সংগঠন আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (এএএফএ) এবং প্যারিসভিত্তিক ইউনিয়ান ডেস ফ্যাব্রিক্যান্টস (ইউএন্ডএফবি)। জালিয়াতি ঠেকাতে মেধাস্বত্তের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করে এই সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)। অভিযোগ প্রমাণ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে কোটা বাতিল, নিষেধাজ্ঞা জারি ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা দৃঢ়ভাবে বলছেন, তারা কখনো এ ধরনের নকলের সঙ্গে জড়িত হননি। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক চিঠিতে ইউএসটিআরের পর্যালোচনার বিষয়টি বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়। ওই চিঠিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়। কিন্তু সেজন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয় মাত্র তিন দিন (১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের মধ্যে)। অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিকভাবে আপত্তি জানিয়ে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় চেয়েছে মন্ত্রণালয়। 

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় চিঠি পাওয়ার পরপরই এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অংশীজনদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় মন্ত্রণালয়ের ডব্লিওটিও (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমানের সঙ্গে।

প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, এবারই প্রথম কোনো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) বিরুদ্ধে এমন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নকলের অভিযোগ প্রমাণ হলে তৈরি পোশাক খাত বড় ঝুঁকিতে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপিসুবিধা ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই, এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত জানাতে ১৫ দিন সময় চাওয়া হবে। এ ছাড়া বিদেশি ব্র্যান্ড নকল ঠেকাতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হবে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে এমন পর্যালোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশও তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএসটিআরের পর্যালোচনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে কোটা ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। 

অভিযোগে এএএফ উল্লেখ করেছে, ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সৌদি আরবসহ ১২টি দেশ থেকে যেসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে তার সবগুলোই বাংলাদেশে তৈরি। এ ছাড়া গত বছর মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে ১৭টি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা ১ লাখ ৭৫ হাজার আইটেমের সবগুলোও বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। এএএফের দাবি, বাংলাদেশে আইপি নীতি না থাকায় উচ্চ মাত্রার দুর্নীতি নকলের পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত করছে। 

এ ব্যাপারে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক প্রতিদিনের বাংলাদেশেকে বলেন, মনে হচ্ছে চীনকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বেকায়দায় ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র এ (পর্যালোচনার) উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন ও ভিয়েতনামের বিরুদ্ধেও নকলের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা আরোপ হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক বাড়তে পারে। 

এই গবেষক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ডব্লিওটিওর আপিল বিভাগে কোনো বিচারক নিয়োগ করা যায় না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা সমাধানের কোনো উপায় নেই। তাই, এএএফএ এবং ইউএসটিআরের অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাদেশের নজর দেওয়া উচিত। 

ইউরোপে ঝুঁকিতে কৃষিপণ্য রপ্তানি 

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা নামি ব্র্যান্ডের চিনিগুঁড়া চাল ও মুড়িতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক পাওয়ায় সুইডেনের বাজারে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে পণ্য দুটি। বাংলাদেশ থেকে এ দুটি পণ্য রপ্তানিতে সুইডেন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গত বছরের অক্টোবরে। এরপর বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তৎপরতা চালালেও বিষয়টি এতদিন সেভাবে প্রচারে আসেনি। 

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সুইডেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। দেশটির কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের দুটি খাদ্যপণ্যে মাত্রাতিরিক্ত (ট্রিসাইক্লোজল) কীটনাশকের উপস্থিতি পেয়েছে। এ কারণে পণ্য দুটি আমদানিতে রেড অ্যালার্ট দিয়েছে অর্থাৎ নিষিদ্ধ করেছে। সন্দেহবশত তারা এখন বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরীক্ষা করতে পারে। তাই, রপ্তানিকারকদের সতর্ক হতে হবে। কারণ, সুইডেন নিষেধাজ্ঞা দিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য দেশগুলোও রেড অ্যালার্ট দিতে পারে। কারণ, তারা সবাই এক নীতিতে চলে। 

তারা জানান, মানমাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক শনাক্ত হওয়া চাল ও মুড়ি ছিল স্কয়ার গ্রুপের। 

এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার কথা হয় স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মো. পারভেজ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, সুইডেনে ১৩-১৪ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছিলেন তারা। সেগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক পাওয়ায় বন্দরেই সেগুলো ধংস করা হয়েছে। মুড়ির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। 

তবে, স্কয়ারের কোনো পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি দাবি করে এ কর্মকর্তা বলেন, তাদের অন্যান্য পণ্য এখনও সুইডেনে রপ্তানি হচ্ছে। 

চাল ও মুড়িতে কীটনাশক কীভাবে এলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনি। কে কোন কীটনাশক কবে ব্যবহার করেছে সে সম্পর্কে তো আমরা জানি না। 

স্কয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানের পণ্যে কীটনাশক পাওয়ায় ইউরোপে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বাজার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে কী ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি? জানতে চাইলে পারভেজ সাইফুল ইসলাম বলেন, পণ্য রপ্তানির ব্যাপারে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে স্কয়ার সেসব নির্দেশনা অনুসরণ করবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবি গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্কয়ারের চাল ও মুড়ি সুইডেনে রপ্তানি করা হয়েছিল। গত বছরের ১৩ অক্টোবর সুইডেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর আমরীন জাহান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানান, সুইডেনে প্রতি কেজিতে দশমিক শূন্য এক মিলিগ্রাম কীটনাশক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু স্কয়ারের চাল ও মুড়িতে কীটনাশক মিলেছে দশমিক শূন্য ৩২ মিলিগ্রাম অর্থাৎ তিনগুণ বেশি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। 

এর ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য, শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ২৪ অক্টোবর একটি সভা করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বাণিজ্য, শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ওই সভায় স্কয়ারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে তিনটি অবশ্যপালনীয় শর্ত অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

সভায় অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে খাদ্য রপ্তানি, প্রয়োজনে উৎপাদন পর্যায়েই কৃষকের সঙ্গে আলোচনা করে মান ঠিক রাখা এবং উৎপাদনে সমস্যা না থাকলে ধাপে ধাপে ক্ষতিকারক কীটনাশকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। 

সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, ওই সভায় স্কয়ারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তারা বলেছে, কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করে দিতে। বাজারে এ জাতীয় পণ্য না থাকলে রপ্তানিও হবে না। 

ওই সভা প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের উপসচিব (রপ্তানি-৬ শাখা) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আজ একটি পণ্যে ক্ষতিকর জিনিস পাওয়া গেছে, আরেক দিন অন্য পণ্যে সমস্যা ধরা পড়তে পারে। এতে ইউরোপে উদীয়মান রপ্তানির বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই স্কয়ারকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সনদসহ পাঠাতে বলা হয়েছে। 

চালে কীটনাশকের উপস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এ লফিত বলেন, চিনিগুঁড়া ধানগাছকে পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে মাশরুম ফাঙ্গিসাইড বা সেটিভ ফাঙ্গিসাইড ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আম, আলু, সবজিসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে এখন উত্তম কৃষিচর্চা পদ্ধতি (জিএপি) অনুসরণ করা হচ্ছে। চালের ক্ষেত্রেও তা প্রয়োজন। এই বৈজ্ঞানিক আরও জানান, এর আগে ভারতের বাসমতী চাল রপ্তানি নিয়েও একই ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তারা অন্য কীটনাশক ব্যবহার করে রপ্তানি সচল রেখেছে। 

তবে পণ্যের মান যাচাইয়ের সক্ষমতার ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ বিভাগের অ্যাডিশনাল ডেপুটি ডিরেক্টর (রপ্তানি) জুয়েল রানা জানান, ইউরোপসহ ১৪০ দেশে বাংলাদেশের শাকসবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপ পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা শর্ত দিয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সচেতন। তাই, সেখানে কৃষিপণ্য পাঠাতে তাদের মান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার না থাকায় ভারত বা অন্যান্য দেশ থেকে পরীক্ষা করে পণ্য রপ্তানি করা হয়। দ্রুত দেশে পরীক্ষাগার স্থাপন না হলে রপ্তানি বাজারে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। 

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পান রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইইউ। মান উন্নয়নের পর ২০২১ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তারা। এর আগে একটি রাসায়নিকের ক্ষতিকর মাত্রায় উপস্থিতির কারণে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি আমদানিতে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইইউ। বহু চেষ্টার পর ২০১৫ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থতি এড়াতে সরকারকে কঠোর ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা