প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো। এদিকে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) গত বছরের জুনে চার দশকের সর্বোচ্চ হয়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে টানা সাত মাস যাবৎ সিপিআই নিম্নমুখী থাকায় মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে।
মূল্যস্ফীতি কমার হার প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও ২০২১ সালের অক্টোবরের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতেই মূল্যস্ফীতির হার সবচেয়ে কম ছিল। তীব্র মূল্যস্ফীতির মধ্যেও খাদ্য এবং জ্বালানির দাম বাড়ার হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। যা ১২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে মাস ভিত্তিতে আবাসন খাতের মূল্যস্ফীতি ছিল বেশি।
গত বছরের ডিসেম্বরে যেখানে আবাসন খাতের খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ জানুয়ারিতে এসে তা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। যা এক বছর আগের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আবাসনখাতে ক্রমবর্ধমান খরচ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ব্ড় ভূমিকা পালন করেছে। যার প্রভাবে দাম বেড়েছে খাদ্য, পেট্রোল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ অনুভব করছে দেশটির নাগরিকরা।
মূল্যস্ফীতি কমার হারকে ভালোভাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। সে হিসেবে এখনও মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি।
এদিকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করায় শক্তিশালী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজার। জানুয়ারিতে দেশটিতে ৫ লাখেরও বেশি কর্মী নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় তিনগুণ। তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোয় শ্রম বাজার আবার চাপে পড়বে বলে মনে করছেন ফেড কর্মকর্তারা।
ফেডের প্রধান জেরোমি পাওয়েল বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হয়েছে। তবে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কমায় আবারও সুদের হার বাড়তে পারে। ফলে শ্রমবাজার চাপের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমছে কিন্তু কমানোর পথ সম্ভবত মসৃণ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন শার্লট, নর্থ ক্যারোলিনার এলপিএল ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ জেফরি রোচ। তিনি বলেন, ‘ফেড শুধুমাত্র একটি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে না। কিন্তু এটি স্পষ্টতই যে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি হার দ্রুত ধীর হবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম দুই মাস ধরে কমার পর আবার ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বিদ্যুতের জন্য জনগণকে বেশি অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে খাদ্যশস্য, বেকারি পণ্য এবং অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ের দাম বেড়েছে তবে ফল এবং সবজির দাম কমেছে।
জানুয়ারিতে সিপিআই বৃদ্ধি অর্থনীতিবিদদের ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। বছরের শুরুতেই চিকিৎসা খরচ বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বছরের শুরুতে মাসিক সিপিআইয়ের কিছুটা বৃদ্ধি উচ্চ মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনাকে তীব্র করে তুলেছে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ। তবে সুদের হার বাড়িয়ে গত কয়েক মাস যাবৎ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে চেষ্টা করছে ফেড। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হারের প্রভাবে দেশটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি কমেছে।
গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে পণ্য কেনায় ভোক্তাদের খরচ কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। পরবর্তী মাস ডিসেম্বরে এসে ভোক্তা ব্যয় আগের মাসের তুলনায় কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরের মধ্যে বিদায়ী বছরের শেষ দুই মাসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল সবচেয়ে ধীর। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স