× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কার্ডে লেনদেনে গ্রাহকের আগ্রহ বেড়েছে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৪০ পিএম

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৪০ পিএম

কার্ডে লেনদেনে গ্রাহকের আগ্রহ বেড়েছে

১০ বছর আগেও গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিকল্প কিছুই ভাবতে পারতেন না। এটিএম বুথের প্রচলন থাকলেও সেখান থেকে টাকা উত্তোলনের হার ছিল একেবারেই নগণ্য।

প্রযুক্তির কল্যাণে লেনদেন সহজ করতে দিন দিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন মেশিন। আর নগদ টাকা বহন ও লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা উত্তোলনের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে মানুষ ঝুঁকছে কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল লেনদেনে। এক কথায় প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রাকে উন্নত করার পাশাপাশি নগদ অর্থ থেকে মানুষকে বিমুখ করছে।

মূলত এই অভ্যস্ততা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ২০২০ সালে দেশে হানা দেওয়া মহামারি করোনা। গত ৪ বছরে মানুষ কার্ডে লেনদেন বাড়িয়েছে ১৩৫ শতাংশ। আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে ১২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। করোনাকালীন ব্যাংকের অনেক শাখার লেনদেন সীমিত ছিল। ফলে ওই সময় গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের সুবিধার্থে এটিএম বা সিআরএমের ওপর জোর দেওয়া হয়। ওই সময় এটিএম বুথ থেকে দিনে একজনের টাকা উত্তোলনের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মূলত ওই সময়েই জনসাধারণের মধ্যে কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। যে কারণে মানুষ এখনও ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনে গুরুত্ব দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনা শুরু হওয়ার আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা হানা দিলে ওই বছরের ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। আর সদ্যসমাপ্ত ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটি ১৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬৬৫ টাকা। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে কার্ডের মাধ্যমে মানুষের লেনদেন বেড়েছে ২২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এদিকে, গত বছরের মার্চে দেশের খোলাবাজারে ডলারের সংকট দেখা দেয়। এ সময় ৮৬ টাকায় বিক্রি হওয়া ডলার ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, কোনো কোনো ব্যাংক ডলার বিক্রি করে এ খাতে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করেছে। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ ডলার কেনার বিপরীতে কার্ডে ডলার ইস্যুর বিষয়ে মানুষকে জোর দেওয়া হয়।

এ কারণে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রবণতাও বেড়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন হয়েছিল ২৫০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালে ডিসেম্বরে এটি ১৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের জুন মাসে দেশে ই-কমার্সের রেকর্ড ১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের ই-কমার্স ব্যবসায় ব্যাপক ধস নামে। ওই বছরের ডিসেম্বরে লেনদেন নেমে দাঁড়ায় ৮২৫ কোটি টাকায়। তবে এ চিত্র কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বিদায় ২০২২ সালে। ওই বছরের এপ্রিলে আবারও ই-কমার্সের লেনদেন হাজার কোটি ছাড়িয়েছে। আর ডিসেম্বরে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

এদিকে, অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম), ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) ও পয়েন্ট অব সেলসের (পিওএস) মাধ্যমেও লেনদেন বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এটিএমের মাধ্যমে ২০ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা, সিআরএমের মাধ্যমে ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ও পিওএসের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১১৬ টাকা। ৪ বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটিএমে ২৯ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা, সিআরএমে ৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা ও পিওএসের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬১৪ টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বিদেশে ভ্রমণ বেড়েছে। কোভিডের কারণে মাঝে তা বন্ধই ছিল বলা যায়। এখন আগের মতোই মানুষ ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি মুদ্রার ব্যবহার বাড়ছে। আর এই ব্যবহার এখন নগদের বদলে কার্ডে বেশি হচ্ছে। বাইরের দেশে এখন অনেকেই নগদ মুদ্রা ব্যবহার করতে চান না। ফলে আগের তুলনায় কার্ডের মাধ্যমে মুদ্রার লেনদেন বেড়ে গেছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা