সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম
প্রবা ফটো
চলতি ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ তিনটি দিবস বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে সাভারে ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সাভার উপজেলা কৃষি অফিস। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও ছত্রাকের আক্রমণের কারণে গত দুই বছর সাভারের গোলাপ গ্রামের ফুলচাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এবার ফুলের ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরাও বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন।
সাভার উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নেই প্রায় ১৫০০ কৃষক ফুল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে বছরজুড়েই বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ হয়। গোলাপের পাশাপাশি ভিনদেশি ফুলের চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন এখানকার চাষিরা। এরই মধ্যে এই ইউনিয়নে জারবেরা, মাম, জিপসি, গ্লাডিওলাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির ভিনদেশি ফুলের চাষ করছেন চাষিরা। এসব ফুল চাষে লাভবান হচ্ছেন তারা।
সাভারের বিরুলিয়ার ফুলচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দুই বছর করোনা মহামারিতে দেশে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের সামাজিক উৎসব বন্ধ থাকায় তারা ফুল বিক্রি করতে পারেননি। সেই সঙ্গে ছত্রাকের আক্রমণ ছিল বেশি। যার ফলে তারা আর্থিকভাবে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার বাগানে ভালো ফলন হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আনিছ নামের এক চাষি বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। গাছে গাছে ভালো ফুল ফুটেছে। বেচাকেনাও হচ্ছে ভালো। তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন।
আক্রাম নামে আরেক চাষি বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভালোবাসা দিবস। এরপর পহেলা ফাগুন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রয়েছে। এ তিনটি দিবসের জন্য অপেক্ষায় থাকি। আশা করা যায় এ বছর ভালো বিক্রি করতে পারব।
ইউনুছ নামে এক ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এখন এক থুড়া (খাঁচি) ফুল বিক্রি করছি ৫০০ টাকা করে। আর একটি ফুল বিক্রি করছি ১০ থেকে ১৫ টাকায়।
মফিজ নামের আরেক ফুলচাষি দেশের চাহিদা অনুযায়ী তাজা ফুল উৎপাদন হওয়ায় সরকারের কাছে বিদেশ থেকে আমদানি করা কৃত্রিম ফুল নিষিদ্ধের দাবি জানান।
সাভারের বিরুলিয়ায় গোলাপের পাশাপাশি বিদেশি ফুল জারবেরাও চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। তাই ফুল দেখতে আসা পর্যটকদের ভিড়ে বিরুলিয়া এখন মুখরিত।
রাজধানীর মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মাহামুদা আক্তার জানান, তারা মূলত প্রতিবছরই এখানে ঘুরতে আসেন। এখানকার সৌন্দর্য আর কাঁচা ফুলের সৌরভ আসলে সবারই উপভোগ করা উচিত। এখানে না এলে বোঝা যেত না কতটা সুন্দর এখানকার পরিবেশ।
আল নাফিউল নামের আরেক দর্শনার্থী জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি এখানে ঘুরতে এসেছেন। এখানে না এলে ফুলের তাজা মনোমুগ্ধকর গন্ধ যেন আন্দোলিত করে তাকে। সব মিলিয়ে এখানে এক অন্যরকম অনুভূতি।
সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, করোনার কারণে বিগত দুই বছরে বিরুলিয়ার ফুলচাষিরা যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সামনের তিনটি দিবসে চাষিরা যাতে ফুলের ন্যায্যমূল্য পান সেই বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চাষিরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে এবার সাভারের ফুলচাষিরা প্রায় ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।